‘একতরফা সিদ্ধান্ত মানা হবে না!’ সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে তুমুল তোলপাড়!

ভারতের নির্বাচন কমিশন ও দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র ভূকম্পন সৃষ্টি করে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নজর কাড়ল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপদ্ধতি ও তাঁর বিতর্কিত নিয়োগ। সোমবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তৃণমূলের পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এক জোরালো আবেদন পেশ করেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই রাজ্যজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘এসআইআর’ (SIR) মামলার সঙ্গেই এই হাই-প্রোফাইল মামলার যৌথ শুনানি গ্রহণ করা হবে।
সূত্রের খবর, সাম্প্রতিককালে এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে লক্ষাধিক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কমিশনের অপর দুই সম্মানিত সদস্য—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে একতরফা ও স্বৈরাচারী নির্দেশ জারি করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এমনকি অন্য দুই কমিশনারের একাধিক লিখিত আপত্তি ও নোট অব ডিসেন্টও তিনি বারবার উপেক্ষা করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই দিল্লির রাজনৈতিক আঙিনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের পক্ষ থেকে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জোরালো দাবি তোলা হয়।
এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টে দুটি জোরালো আইনি আঘাত হানতে চলেছে। এর আগে রাজ্যজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক গাফিলতি ও কারচুপির অভিযোগে একটি মামলা বিচারাধীন ছিল। সোমবার তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর যৌথ উদ্যোগে জ্ঞানেশ কুমারের ক্ষমতার যথেচ্ছ অপব্যবহার এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নতুন পিটিশন দায়ের করা হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই আবেদনের গুরুত্ব অনুধাবন করে জানান যে, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত পুরনো মামলার সঙ্গেই এই নতুন আর্জি যুক্ত করে চলতি সপ্তাহেই একসঙ্গে শুনানি হবে।
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথ এবং সংসদীয় মঞ্চেও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পারদ চড়াতে পুরোপুরি প্রস্তুত বিরোধী শিবির। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে একটি বিশাল প্রতিবাদ সভা ও গণ-জমায়েতের ডাক দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। একই সঙ্গে আসন্ন শীতকালীন সংসদীয় অধিবেশনে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ‘ইমপিচমেন্ট’ বা অপসারণের প্রস্তাব আনার কঠোর প্রস্তুতিও চলছে পর্দার আড়ালে।
অন্যদিকে, এই সংঘাতের আবহে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মূল নাম এবং ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নির্ধারণ করতে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত বৈঠকের ডাক দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩০ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটায় নতুন দিল্লির নির্বাচন সদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষকে এক ছাদের তলায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ইতিপূর্বে কমিশন একাধিকবার শুনানি করলেও কোনো স্থায়ী মীমাংসায় পৌঁছাতে পারেনি। এমনকি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনে সাময়িক বিকল্প হিসেবে পৃথক নাম ও আলাদা প্রতীক বরাদ্দ করতে বাধ্য হয়েছিল কমিশন। আগামী ৩০ অক্টোবরের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই নির্ধারিত হতে চলেছে বাংলার সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ও তাদের প্রতীকের ভবিষ্যৎ ভাগ্য। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লি থেকে কলকাতা—বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই জোড়া লড়াই দেশের আগামী দিনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে।