মাত্র ৬ মিনিটে সব শেষ! জয়ের দোরগোড়া থেকে পয়েন্ট হারিয়েও কীভাবে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়ল টিম ইন্ডিয়া?

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল বিশ্বকাপে দুরন্ত ছন্দে ও অপ্রতিরোধ্য মেজাজে লড়ছে ভারত। লাওস ও ক্যামেরুনকে হারানোর পর নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে গ্রেনাডার মুখোমুখি হয়েছিল বিবিয়ানো ফার্নান্ডেসের ছেলেরা। একসময়ে ৩-০ গোলে নিশ্চিত জয়ের দিকে এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয় ধস এবং ডিফেন্সের চরম ভুলে শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলে ম্যাচ ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভারতীয় দলকে। চলতি বিশ্বকাপে এখনও অপরাজিত থাকলেও, জয়ের হাতের গ্রাস এভাবে মুখ থেকে কেড়ে নেওয়ার আক্ষেপ পুড়ছে পুরো শিবিরকে। ম্যাচ শেষের মাত্র ১১ মিনিট আগেও যে দল ৩-০ ব্যবধানে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করছিল, মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যে রক্ষণের মারাত্মক ভুলে তাদের পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হলো।
ম্যাচের শুরুতেই ভারতীয় ঝড়: ক্যামেরুনকে হারানোর টাটকা আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে এ দিন মেঘলা আকাশের নিচে গ্রেনাডার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই চড়াও হয় ভারতীয় কিশোররা। বাঁশি বাজার সঙ্গেই ক্যারিবিয়ান আক্রমণভাগকে আটকে ফেলে ভারত। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটে দারুণ সাফল্যের দেখা মেলে। ডানদিক থেকে নিবাস মেইতেই ওয়াহেংবামের একটি চোখধাঁধানো ইনসাইড থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন ম্যাকডনিশ এনগাইরাংবাম। আগুয়ান গ্রেনাডা কিপার খারিন স্টিলকে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি (১-০)। প্রথমার্ধে লালরেমরুয়াতফেলার দূরপাল্লার শট এবং ম্যাকডনিশের একটি নিশ্চিত হাফ-ভলি গোললাইন থেকে প্রতিহত না হলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। ১৭ মিনিটে একাই ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে ডানপ্রান্ত থেকে লালরেমরুয়াতফেলার নেওয়া একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে প্রথমার্ধেই বড় ব্যবধান তৈরি হতে পারত।
প্রথমার্ধ ১-০ গোলে শেষ হওয়ার পর… দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (২২ মিনিটে) ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় ভারত। মাঝমাঠ থেকে সৌমজিৎ সরকারের বাড়ানো নিখুঁত লং বল গ্রেনাডা ডিফেন্ডার ওমারি ম্যাকসুইন ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন। বক্সের মাথায় সেই বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বুক দিয়ে ড্রপ করান ভারত অধিনায়ক সি লালহমিংগ্রোপুইয়া। এরপর তাঁর বাঁ পায়ের জোরালো শট সরাসরি জালে জড়িয়ে যায় (২-০)। এখানেই থামেনি ভারত, ২৯ মিনিটে একক নৈপুণ্যের এক চোখধাঁধানো গোল উপহার দেন রোনানদেব আহেইবাম। বাঁ-প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত গতিতে দৌড় শুরু করে চোখের পলকে দুই গ্রেনাডা ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান তিনি (৩-০)।
জয়ের দোরগোড়ায় এসে মর্মান্তিক ছন্দপতন: ম্যাচ যখন ভারতের পকেটে চলে এসেছে এবং জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা, ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। হঠাৎই ভারতীয় দলের রক্ষণভাগে চরম তালফেল ও হর্তকর্তা শুরু হয়। ৩২ মিনিটে বক্সের জটলার সুযোগ নিয়ে ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করেন গ্রেনাডার জয়ওয়ার্নি নোয়েল। ঠিক তার পরের মিনিটেই (৩৩ মিনিটে) কাই উইলসনের নেওয়া একটি দূরপাল্লার জোরালো শট ভারতের গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে স্কোরলাইন ৩-২ করে দেয়।
মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুই গোল হজম করে দিশেহারা হয়ে পড়ে ভারতীয় ডিফেন্স। সেই সুযোগ পুরোপুরি লুফে নিয়ে ৩৭ মিনিটে পাওয়া একটি ফ্রি-কিক থেকে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ট্যাপ-ইন করে নিজের জোড়া গোল এবং গ্রেনাডার পক্ষে ৩-৩ সমতা ফেরান সেই নোয়েলই। শেষ তিন মিনিটে জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও কাঙ্ক্ষিত গোলের মুখ আর খুলতে পারেনি ভারত।
তবুও স্বস্তিতে পয়েন্ট টেবিল: এই হতাশাজনক ড্রয়ের মধ্যেও টিম ম্যানেজমেন্টকে স্বস্তি দিচ্ছে টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবল। এদিনই অন্য দুই ম্যাচে ক্যামেরুন ৬-১ গোলে লাওসকে এবং সেনেগাল ৬-১ গোলে বাহরিনকে বিধ্বস্ত করলেও, ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শক্তহাতে ‘K’ গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখল ভারত। যেখানে ক্যামেরুন ও সেনেগালের পয়েন্ট যথাক্রমে ৬। সোমবার বাহরিন ও সেনেগালের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ দুটি ম্যাচ জিতে নকআউট তথা পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করতে এখন পুরোপুরি মুখিয়ে রয়েছে বিবিয়ানোর ছেলেরা।