‘২০১৪-র আগে এক ফোনেই মিলত হাজার কোটির লোন!’ ভুবনেশ্বরে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসকে ধুইয়ে দিলেন মোদী!

রবিবার ওড়িশার ভুবনেশ্বরে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) তৈরি ১৬৯ কোটি টাকার নতুন আধুনিক ডেটা সেন্টার এবং সাইবার সিকিউরিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের শুভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই হাইভোল্টেজ মঞ্চ থেকেই নাম না করে কংগ্রেস ও তৎকালীন ইউপিএ সরকারকে তীব্র রাজনৈতিক নিশানা বানালেন তিনি।

উদ্বোধনী সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “২০১৪ সালের আগে দিল্লিতে শাসকদলের কিছু ঘনিষ্ঠ ও চহেতাদের কেবল ‘ফোন ব্যাংকিং’-এর মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ পাইয়ে দেওয়া হতো। সেই দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার কারণেই ভারতের পুরো ব্যাংকিং ক্ষেত্র মারাত্মক এনপিএ (NPA) বা খেলাপি ঋণের বোঝা চেপে ধুঁকছিল।”

নতুন ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ এবং বিশ্বমঞ্চে মজবুত ব্যাংক ব্যবস্থা: বিগত দশকে ব্যাংক ব্যবস্থার বিপুল পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেকোনও বড় পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সাহসিক দৃষ্টিভঙ্গি। আজ আমাদের সরকারের নতুন ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ ইকোসিস্টেমের কারণে দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিক ব্যাংকিং পরিষেবার প্রত্যক্ষ সুবিধা পাচ্ছেন। ভারতীয় ব্যাংক ব্যবস্থা আজ বিশ্বের অন্যতম শক্তপোক্ত ও সুরক্ষিত ব্যাংক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

ভুবনেশ্বরের জটনিতে অবস্থিত ১৮.৫৫ একর জমিতে ছড়ানো আরবিআই-এর এই অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টারটির ভিত্তিপ্রস্তর ২০২৩ সালের ২২ মার্চ স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। এটি চালু হওয়ায় ওড়িশার তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি গোটা দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যাংক ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে দাবি করেন মোদী।

সুষম উন্নয়ন ও ১৩ কোটি নতুন উদ্যোক্তা: পূর্ববর্তী সরকারগুলির উন্নয়ন নীতির সমালোচনা করে মোদী স্পষ্ট জানান, স্বাধীনতার পর থেকে কেবল বড় বড় শহরেই হাসপাতাল বা বিমানবন্দর গড়ে উঠেছে, দেশের এক বিস্তীর্ণ অংশ মৌলিক সুবিধার জন্য যুগ যুগ ধরে অপেক্ষা করে থেকেছে। কিন্তু তাঁর সরকার ‘সুষম বিকাশ’ বা দেশের প্রতিটি প্রান্তে সমান উন্নয়নে বিশ্বাসী।

দেশের ছোট ছোট শহরগুলিকেও এখন এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে যুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন—

  • গ্রামে প্রায় ১.৭৫ লাখ ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’ চালু করা হয়েছে।

  • ‘মুদ্রা যোজনা’-র মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো ১৩ কোটি মানুষ স্বনির্ভর উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন।

  • ‘অটল পেনশন যোজনা’র আওতায় ৯ কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা পেয়েছেন, যার মধ্যে কেবল ওড়িশারই রয়েছে ৩৮ লাখ নাগরিক।

ভাষণের শেষে সুশাসনের মূল মন্ত্র হিসেবে ‘নাগরীক দেবো ভব’ বাক্যটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সমাজ ও দেশের একেবারে শেষ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির কাছে উন্নয়নের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।