বিহারের কোন শহরকে বলা হয় ভারতের রেশম নগরী? নাম শুনলে চমকে যাবেন!

ভারতে বস্ত্রশিল্প ও হস্তশিল্পের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও গৌরবময়। তুলা থেকে শুরু করে উৎকৃষ্ট রেশম পর্যন্ত, বিশ্ববাজারে বয়নশিল্পের জগতে ভারত সবসময়ই নিজের জন্য এক অনন্য ও উচ্চ স্থান অধিকার করে আছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত নিজস্ব শৈলী, কারুকার্য এবং অনন্য তন্তুর জন্য বিখ্যাত। আজকাল দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অনেক বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডও ভারতীয় নকশা ও ঐতিহ্যবাহী উপকরণ থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছে। আর এই বিশাল বস্ত্র ঐতিহ্যের মাঝে বিহারের এমন একটি শহর রয়েছে, যা তার চমৎকার রেশমের জন্য সারা বিশ্বে ‘রেশম নগরী’ বা সিল্ক সিটি হিসেবে সমাদৃত।
ভাগলপুরের ঐতিহাসিক পরিচিতি ও ভাগলপুরী সিল্ক: বিহারের ঐতিহাসিক শহর ভাগলপুর এই মুকুটের দাবিদার। গঙ্গার দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ভাগলপুর তার বিশ্ববিখ্যাত ‘ভাগলপুরী রেশম’ এবং বিশেষ করে তসর সিল্কের (Tussar Silk) জন্য বিশেষ পরিচিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়নশিল্প ও তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই শহরের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়। এখানকার স্থানীয় নিপুণ কারিগররা প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী কৌশল ব্যবহার করে শাড়ি, স্কার্ফ, প্রিমিয়াম বিছানার চাদর এবং নানা ধরনের আধুনিক বস্ত্র তৈরি করে আসছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভাগলপুরী রেশম কেন এতটা বিখ্যাত এবং কী এর বিশেষত্ব?
অন্যান্য সিল্কের চেয়ে ভাগলপুরী সিল্ক কেন আলাদা? বাজারে পাওয়া সব রেশম তন্তু একরকম হয় না; প্রতিটি ফাইবারের নিজস্ব স্বতন্ত্র বুনন ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ভাগলপুরী রেশমের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। এই শহরটি মূলত তার খাঁটি তসর রেশমের জন্য বিখ্যাত, যা এর সূক্ষ্ম বুনন এবং রাজকীয় চেহারার জন্য অত্যন্ত সমাদৃত।
সাধারণ তুঁত রেশম যেমন তুঁত পাতা খেয়ে বেঁচে থাকা রেশম পোকা থেকে তৈরি হয়, তেমনই তসর রেশম আসে বনের প্রাকৃতিক গাছপালা খেয়ে বেঁচে থাকা বন্য রেশম পোকা থেকে। এর সামান্য অমসৃণ ও টেকসই বুননই একে অন্যান্য সিল্কের চেয়ে আলাদা করে তোলে। এর প্রাকৃতিক সোনালী বা মাটির মতো স্নিগ্ধ আভা (Earthly Tone) একে এক অনন্য ও আভিজাত্যপূর্ণ রূপ দেয়, যা সাধারণ মসৃণ রেশম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আর এই বহুমুখী ব্যবহার ও রাজকীয় লোকলাইনের জন্যই যুগ যুগ ধরে ফ্যাশনপ্রেমীদের প্রথম পছন্দ হয়ে রয়েছে বিহারের রেশম শহর ভাগলপুরের এই ঐতিহ্যবাহী তসর সিল্ক।