‘ওর বাবাকেও যেতে হবে!’ পাটনায় মোদীকে মারাত্মক আক্রমণ খাড়গের, রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল!

বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ডঃ শ্রীকৃষ্ণ সিংহের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পাটনায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্য রাজনীতির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে আনার পুরোনো প্রতিশ্রুতি থেকে শুরু করে বিজেপি ও আরএসএস (RSS)-এর সামাজিক আদর্শ— একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যুতে সোচ্চার হন তিনি। তবে বক্তব্য চলাকালীন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তাঁর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সভাস্থলে তুমুল হট্টগোল ও রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে ওঠে।

মোদীর বাবাকে নিয়ে মন্তব্যে তোলপাড়: পাটনার ঐতিহাসিক এই মঞ্চ থেকে খাড়গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে একশো দিনের মধ্যে বিদেশ থেকে কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে চরম কটাক্ষ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে বিদেশের ব্যাঙ্কে জমা থাকা সব কালো টাকা ফিরিয়ে আনার কথা ছিল, সেই টাকা কোথায় গেল?”

তাঁর এই বক্তব্য চলাকালীন উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হঠাৎই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে লক্ষ্য করে একটি ব্যক্তিগত মন্তব্য ছুড়ে দেন। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সটান জবাব দিতে গিয়ে কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “মোদীর বাবাকেও চলে যেতে হবে!” খাড়গের এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পুরো সভাগৃহে ব্যাপক হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। পরবর্তীতে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা কংগ্রেস সভাপতির এই ধরনের অশালীন আক্রমণের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন, যা ঘিরে রাজ্য তথা দেশীয় রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে।

SIR প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘SIR’ (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়েও নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি বিষোদগার করেন খাড়গে। তাঁর গুরুতর অভিযোগ, চক্রান্ত করে ভোটার তালিকা থেকে বিরোধী জোটের সমর্থক ও সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে অবিলম্বে স্থগিত করার জোর দাবি জানিয়ে তিনি সওয়াল করেন, “নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দেশের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গত দু’বছরে হওয়া সমস্ত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন বাতিল করতে হবে এবং আগামী দিনের সমস্ত ভোট পুনরায় ব্যালট পেপারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।”

বিজেপি, আরএসএস ও নীতীশ কুমারকে একযোগে আক্রমণ: বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মূল আদর্শকে নিশানা করে খাড়গে দাবি করেন যে, দেশে আরএসএস-এর উগ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ভাবনা বহাল থাকলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অধরাই থেকে যাবে। তারা ক্রমাগত ধর্মীয় বিভাজনের বীজ বপন করে চলেছে।

একই সঙ্গে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও জনতা দল ইউনাইটেড (JDU) প্রধান নীতীশ কুমারকেও রেয়াত করেননি তিনি। খাড়গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একসময় রামমনোহর লোহিয়া ও সোশালিস্ট ধারার রাজনীতি করা নীতীশ কুমার আজ ক্ষমতার স্বার্থে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির হাত ধরেছেন, যা নীতিগতভাবে অত্যন্ত দুঃখজনক।” সেই সঙ্গে সমাজে জাতিগত বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ধর্ম মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে পারে না, বরং ঐক্যের শিক্ষাই ধর্মের মূল ভিত্তি।