‘সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হতে পারে না!’ পাকিস্তানকে নাম না করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধুইয়ে দিলেন জয়শঙ্কর!

সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না এবং এই চরমপন্থাকে কোনও যুক্তি দিয়েই ন্যায্য প্রমাণ করা সম্ভব নয়। বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক মহলকে রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ ভুলে একজোট হওয়ার জোরালো বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রবিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বমঞ্চে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাষ্ট্রীয় কৌশল বা নিজস্ব রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সন্ত্রাসবাদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। কোনো পরিস্থিতিতেই এই ধরনের উগ্রপন্থী কার্যকলাপকে সমর্থন করা যায় না।

পাক-চীনকে নাম না করে কড়া বার্তা: কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করলেও, জয়শঙ্করের নিশানায় যে প্রতিবেশী পাকিস্তান ও চীন ছিল তা অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিশ্বের প্রতিটি দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সমানভাবে কঠোর অবস্থান নেয় না বলেই এই বিপদ আজও মানবজাতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাস থেকে অজস্র শিক্ষা পাওয়া সত্ত্বেও কিছু দেশ এখনও তাদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক হিসাবনিকাশকেই বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছে।” এর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে আরও স্পষ্ট সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক ঐক্য গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।

ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়া সংঘাত এবং কূটনীতি: বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা যুদ্ধ ও অস্থিরতা প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন জয়শঙ্কর। ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শান্তি কখনো খণ্ডিত হতে পারে না। বিশ্বের এক প্রান্তে আগুন জ্বললে তার উত্তাপ ও প্রভাব গোটা বিশ্ব অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর পড়ে।” এই ধরনের জটিল সংকট সমাধানে একমাত্র পথ হলো পারস্পরিক আলোচনা ও কূটনীতি।

রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারে সোচ্চার ভারত: নয়াদিল্লির এই মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রসংঘের (UN) ভূমিকা এবং পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের দাবিও নতুন করে তোলেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের একটি বৃহৎ অংশের দেশকে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা মোটেও উচিত নয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রসংঘে দ্রুত সংস্কার আনার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।

সংক্ষেপে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, সংঘাত মেটাতে কূটনীতি এবং রাষ্ট্রসংঘের আধুনিকীকরণ— আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের এই তিন মূল বার্তা তুলে ধরে বিশ্বনেতাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করলেন এস জয়শঙ্কর।