পাড়ায় জলসা দেখতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! প্রতিবেশীর উঠোনে কিশোরীর অর্ধনগ্ন রক্তাক্ত দেহ, চাঞ্চল্য গাইঘাটায়!

দুর্গাপুজোর বিজয়ার আনন্দে মেতে পাড়ায় জলসা দেখতে গিয়েছিল সে। কিন্তু উৎসবের সেই রাতই যে এত বড় মর্মান্তিক পরিণতি নিয়ে আসবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি পরিবার ও গ্রামের বাসিন্দারা। রবিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে প্রতিবেশীর উঠোন থেকে উদ্ধার হলো এক কিশোরীর অর্ধনগ্ন ও রক্তে ভেসে যাওয়া দেহ। মর্মান্তিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়।
কিশোরীকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে সোচ্চার হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
একটি ফোন কল এবং রহস্যময় নিখোঁজ: স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত এলাকার প্রথা মেনে বিজয়া দশমীর পর শনিবার রাতে পাড়ায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা জলসার আয়োজন করা হয়েছিল। অন্য বন্ধুদের সঙ্গেই জলসা দেখতে গিয়েছিল ওই কিশোরী। রাত প্রায় ১১টা নাগাদ তার মোবাইলে একটি ফোন আসে। এরপরই সে বন্ধুদের বলে অনুষ্ঠানস্থল থেকে উঠে যায়।
কিন্তু গভীর রাতে অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলেও কিশোরী বাড়ি না ফেরায় দুশ্চিন্তা শুরু হয় পরিবারে। আত্মীয়স্বজন ও সহপাঠীদের বাড়িতে রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও সন্ধান মেলেনি। রবিবার সকালে এক প্রতিবেশীর উঠোনে কিশোরীকে বীভৎস ও অর্ধনগ্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তার মুখ ও শরীর রক্তে ভেজা ছিল।
বাংলাদেশি দুষ্কৃতী যোগের আশঙ্কা: ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। যেহেতু এলাকাটি বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন, তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি— রাতের অন্ধকারে প্রায়শই কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকে অপরাধ সংঘটিত করে গা ঢাকা দেয়। গ্রেফতার হওয়া স্থানীয় যুবকের সাথে এই ধরনের দুষ্কৃতী দলের গভীর যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
খবর পেয়ে বনগাঁ জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা তড়িঘড়ি গাইঘাটায় পৌঁছান। লালবাজার ও স্থানীয় থানার শীর্ষ আধিকারিকরা পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন। ধৃত যুবককে হেফাজতে নিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। এর পেছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত জোরকদম চালানো হচ্ছে।