পাকিস্তান থেকে হাওয়ালার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা নয়ছয়! ফেঁসে গেলেন বারামুলার সাংসদ ও শীর্ষ নেতারা

দিল্লির একটি বিশেষ আদালত জম্মু-কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের জন্য পাকিস্তান থেকে অবৈধভাবে হাওলার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের একটি চাঞ্চল্যকর অর্থ পাচার (মানিলন্ডারিং) মামলায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আদালত কারাবন্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ও জেকেএলএফ (JKLF) প্রধান ইয়াসিন মালিক, বারামুলার বর্তমান সাংসদ শেখ আব্দুল রশীদ ওরফে ‘ইঞ্জিনিয়ার রশীদ’ এবং আরও পাঁচজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া বা মামলা শুরুর নির্দেশ দিয়েছে। বিচারক প্রশান্ত শর্মা এই মামলার শুনানিতে অভিযুক্তদের অপরাধের সাথে সরাসরি যোগসূত্র এবং গভীর ষড়যন্ত্রের সাপেক্ষে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও আইনি উপাদানের উপস্থিতি লক্ষ্য করে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রবর্তন নির্দেশালয় বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে প্রায় ৮.৯৪ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ বা ‘প্রোসিডস অফ ক্রাইম’ অর্জন করেছিল। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন মাধ্যম মারফত সংগ্রহ করে তা নিজেদের দখলে রাখা, অন্যত্র স্থানান্তর করা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোপন করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। এই হাই-প্রোফাইল মামলার মূল অভিযুক্তদের তালিকায় ইয়াসিন মালিক ও ইঞ্জিনিয়ার রশীদ ছাড়াও রয়েছেন বিশিষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সাব্বির আহমেদ শাহ, মসরত আলম, জহুর আহমেদ শাহ ওয়াটালি, নওয়াল কিশোর কাপুর এবং মেসার্স ট্রিসন ফার্মস অ্যান্ড কন্সট্রাকশনস প্রাইভেট লিমিটেড। ইডির এই মানিলন্ডারিং মামলাটি মূলত ২০১৭ সালে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-এর দায়ের করা একটি প্রাথমিক এফআইআর এবং চার্জশিটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, যেখানে ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) এবং ইউএপিএ (UAPA) আইনের কঠোর ধারাগুলি প্রয়োগ করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্তরা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে গিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে অস্থিরতা তৈরি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে চাঙ্গা করার জন্য পাকিস্তানি চক্রান্তের অংশ হিসেবে হাওলার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ তছরুপ করেছে। ইডি জানিয়েছে, এই কোটি কোটি টাকা নগদ পরিবহনকারী এবং এক জটিল মধ্যস্থতাকারীদের একটি বিশাল চক্রের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানো হতো। অভিযোগ রয়েছে, এই মধ্যস্থতাকারীরা সরাসরি নয়া দিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তানি হাইকমিশন থেকে তহবিলের টাকা সংগ্রহ করত এবং তা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক ও ভারত-বিরোধী কার্যকলাপে ব্যবহারের জন্য ইয়াসিন মালিকসহ অন্যান্য প্রধান বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের হাতে তুলে দিত।
তদন্তকারী সংস্থার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ অনুযায়ী, একা ইয়াসিন মালিকই তিন কোটি টাকারও বেশি বিদেশি অনুদান এবং অপরাধমূলক তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ বিভিন্ন উপায়ে সরিয়ে ফেলেছিলেন। এ ছাড়াও সাব্বির আহমেদ শাহ এবং এমপি ইঞ্জিনিয়ার রশীদের বিরুদ্ধেও এই একই মডিউলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের জোরালো প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি ইডির। তবে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন আদালতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের মাধ্যমেই কেবল এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের সত্যতা ও আইনি বৈধতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হবে।