“আপনি কী করে বই দেবেন?” নিরাপত্তা ঘেরাটোপ ভেঙে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে উপহার তুলে দিলেন বৃদ্ধ জ্ঞানেন্দ্র!

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় আসার পথে রাস্তার ধারে অধীর আগ্রহে এবং অত্যন্ত আশায় বুক বেঁধে দাঁড়িয়ে ছিলেন নবতিপর এক বৃদ্ধ, জ্ঞানেন্দ্র সর্দার। তাঁর পরনে ছিল গেরুয়া বসন এবং হাতে ছিল একটি পবিত্র বই— ‘গীতা’। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার কঠোর দায়িত্বে থাকা কর্মীরা প্রথমে ওই বৃদ্ধকে রাস্তা থেকেই সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একজন নিরাপত্তারক্ষীকে বেশ কৌতূহলী ও কঠোর সুরে বলতে শোনা যায়, “আপনি কী করে বই দেবেন?” কিন্তু বৃদ্ধ জ্ঞানেন্দ্রও ছিলেন নাছোড়বান্দা। তাঁর দৃঢ়সংকল্প ছিল, তিনি নিজের হাতে এই পবিত্র বই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উপহার দেবেনই।

ঠিক সেই সময়েই কাকদ্বীপের বাংলা মাঠের মোড়ে বাঁক নেয় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। গাড়ির ভিতর থেকেই গেরুয়া বসন পরিহিত বৃদ্ধ জ্ঞানেন্দ্রর দিকে নজর পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর। ভিড়ের মাঝেও বৃদ্ধের এই আকুতি ও উপস্থিতি এড়িয়ে যাননি তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি চালককে গাড়ি থামাতে বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গাড়ি থামতেই তিনি খানিকটা বেরিয়ে আসেন। সাধুবেশী বৃদ্ধ জ্ঞানেন্দ্র সর্দার তখন বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে চরম আনন্দের সঙ্গে তাঁর আনা ‘গীতা’ বইটি সটান মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

মুখ্যমন্ত্রীও অত্যন্ত সমাদরের সঙ্গে বৃদ্ধের হাত থেকে সেই পবিত্র গীতা গ্রহণ করেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজের বহুকাঙ্ক্ষিত ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় আবেগে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি নবতিপর জ্ঞানেন্দ্র। আনন্দে তাঁর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে এবং তিনি কেঁদে ফেলেন। তাঁর জরাগ্রস্ত চোখে-মুখে তখন এক বুক আবেগ আর নির্মল আনন্দের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্নেহের সুরে বৃদ্ধকে সুস্থ ও ভালো থাকার বার্তা দেন। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বলেন, “ভালো থাকুন। আশীর্বাদ করুন।” মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে এই কথা শোনার পর জ্ঞানেন্দ্র সর্দার আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁর জীবনের এই কয়েক মুহূর্তের সাক্ষাৎ হয়ে ওঠে এক পরম স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা।

প্রশাসনিক বৈঠকের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও সাধারণ মানুষের প্রতি এমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এদিন আলাদা করে সকলের নজর কেড়েছে। একদিকে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে উচ্চপর্যায় বৈঠক, আর অন্যদিকে এক প্রবীণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষা পূরণের এমন এক আবেগঘন দৃশ্য— দুইয়ের মেলবন্ধনে কাকদ্বীপের মাটি সাক্ষী থাকল এক অন্যরকম মায়াবী মুহূর্তের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বৃদ্ধ সাধুবেশী জ্ঞানেন্দ্র সর্দার কাকদ্বীপের লর্ড এইট (8) এলাকায় অবস্থিত সুপরিচিত ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের স্থায়ী বাসিন্দা।