বিদ্রোহী ১০ বিধায়ক কাণ্ডে চরম মোড়! স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে কালীঘাট তৃণমূল

রাজ্য রাজনীতিতে দলবদল ও বিধায়ক পদ খারিজের লড়াই এবার নতুন মোড় নিল। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে বিদ্রোহ ঘোষণা করা এবং পৃথক তৃণমূল গড়া ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবি নিয়ে ফের দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলো কালীঘাট (মমতা শিবির)। শুক্রবার বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর নেওয়া সিদ্ধান্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে মামলা দায়ের করেছেন প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার সম্ভাব্য শুনানির দিন ধার্য হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঠিক কী কারণে আইনি লড়াইয়ে এই নতুন মোড়?

সূত্রের খবর, এই মামলায় নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’-এর নেতা তথা বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা এবং ফিরহাদ হাকিম-সহ মোট ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়ককে।

এর আগেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যান্যদের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে সেই সময় শীর্ষ আদালত সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপে রাজি হয়নি। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা বিধানসভার স্পিকারের হাতেই ন্যস্ত রয়েছে। তবে আদালতের পক্ষ থেকে স্পিকারকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিন মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

স্পিকারের সিদ্ধান্ত ও নতুন আইনি পদক্ষেপ

আদালতের নির্দেশ মতো বিষয়টি বিধানসভার স্পিকারের কাছে পৌঁছালে, স্পিকার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের করা মূল আবেদনে কিছু ত্রুটি রয়েছে বলে তা খারিজ করে দেন। অধ্যক্ষের দাবি ছিল, নিয়মানুযায়ী আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া নথিতে সই এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে চলার ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি ছিল। তবে স্পিকার এও জানিয়েছিলেন যে, সঠিক পদ্ধতি মেনে নতুন করে আবেদন করা যেতে পারে।

স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের পরেই আর কালবিলম্ব না করে তাঁর সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ফের সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়ে রাজ্যে প্রথমবার এককভাবে সরকার গঠন করে গেরুয়া শিবির। এরপর মাত্র এক মাসের মধ্যেই শাসকদলে বড় ধরনের ভাঙন ধরে। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা সাংবাদিক বৈঠক করে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পৃথক দল গড়ার কথা ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তাঁদের সঙ্গে প্রায় ৬৪ জন তৃণমূল বিধায়ক যোগ দেন বলে জানা যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ১০ বিধায়কের ভবিষ্যৎ এবং স্পিকার বনাম শাসকদলের এই আইনি লড়াই এখন বাংলা তথা জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।