মিলল না জামিন, তিহাড় জেলেই রাত কাটবে CJP নেতাদের! তোলপাড় রাজনীতির অন্দরে, শুনানি ছেড়ে সরলেন বিচারক

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলন ঘিরে আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত হলো। সিজেপি-র দুই শীর্ষ নেতা— অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। ফলে তাঁদের মুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আপাতত কাটার কোনো লক্ষণ নেই।

আদালতের সাম্প্রতিক এই নির্দেশের পর সিজেপি-র এই দুই অন্যতম শীর্ষ মুখকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তিহাড় জেলেই কাটাতে হবে। ওই দিনই মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

ঠিক কী অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল?

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ অক্টোবর। দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকাটি সম্প্রতি সরকার বিক্ষোভের স্থান হিসেবে বাতিল বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অভিযোগ, অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস ওই নিষিদ্ধ স্থানে তালাবদ্ধ গেট টপকে অনধিকার প্রবেশ করেন এবং আগে দেওয়া শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা বা শর্ত লঙ্ঘন করে তীব্র প্রতিবাদ প্রদর্শন করেন। এর পরই তাঁদের আটক করে পুলিশ।

১৪ অক্টোবর স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলে দু’জনকেই রাজধানীর তিহাড় জেলে পাঠানো হয়।

হুমকি ও বিচারকের সরে দাঁড়ানোর নাটकीय মোড়

দুই নেতার মুক্তি ও জামিন প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু থেকেই জটিলতা বাড়ছিল। CJP-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জামিনের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ দাবি করে আইন অনুযায়ীই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এই চরম টানাপোড়েনের মাঝেই মামলাটি এক নাটকীয় মোড় নেয়। সংশ্লিষ্ট স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিজের কাছে বেনামী হুমকি বার্তা আসার কথা জানিয়ে মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ান। বিচারককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।

রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সহ দলের সমস্ত নেতৃত্ব তাঁদের দুই সহ-সমন্বয়কের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলা এই আইনি লড়াই ও বন্দিদশা জাতীয় রাজধানীর রাজনৈতিক উত্তেজনাকে যে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Pratik Saha
  • Pratik Saha