বন্দুকের যান্ত্রিক ত্রুটিতেই প্রাণে বাঁচলেন টাইগার শ্রফ? চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় বলিপাড়া!

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের বিএমডব্লিউ গাড়িতে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক ফরেনসিক ও পুলিশি তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে, হামলাকারীদের হাতের অস্ত্রটি মাঝপথেই জ্যাম হয়ে যাওয়ার কারণে বা যান্ত্রিক ত্রুটির (Weapon Malfunction) ফলেই বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন অভিনেতা। ঘটনাস্থল থেকে মোট ৭ রাউন্ড গুলি চালানোর চিহ্ন মিললেও, তার মধ্যে দুটি আস্ত বা ‘লাইভ কার্তুজ’ উদ্ধার করা হয়েছে।

কী জানা যাচ্ছে তদন্তে?

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের কার্তুজ এবং ৫টি খালি শেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের জোরালো সন্দেহ, হামলাকারীদের মধ্যে একজনের বন্দুকটিতে গোলযোগ দেখা দেওয়ায় পুরো কার্টিজটিই ইজেক্ট হয়ে বেরিয়ে আসে। এমনকি ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোর মধ্যে ‘জিগানা’ (Zigana) পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

সিসিটিভি ফুটেজেও সেই চাঞ্চল্যকর দৃশ্য ধরা পড়েছে। দেখা যাচ্ছে, প্রথম শুটার টাইগার শ্রফের গাড়িতে একের পর এক গুলি চালালেও, ঠিক যেদিকের প্যাসেঞ্জার সিটে অভিনেতা বসেছিলেন তার কাছাকাছি থাকা দ্বিতীয় শুটার বারবার অস্ত্র চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। সে তার দুই হাতের মধ্যে বন্দুকটি বদল করে সেটি সচল করার চেষ্টা চালায়, কিন্তু ফুটেজে তার বন্দুক থেকে কোনও গুলি বেরতে দেখা যায়নি। অস্ত্রটি বারবার আটকে যাওয়ার এই দৃশ্যই অস্ত্র জ্যাম হওয়ার তত্ত্বটিকে জোরালো করে তুলেছে।

গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত, নেপথ্যে বিষ্ণোই গ্যাং

এই হামলার ঘটনায় মুম্বই পুলিশ, রাজস্থান পুলিশের অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স এবং কোটা সিটি পুলিশের যৌথ অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে। রাজস্থানের কোটা রেলওয়ে স্টেশন থেকে মোট তিন জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে হরিয়ানার দুই যুবক – ১৭ বছরের এক কিশোর ও রেহান, এবং বিহারের বাসিন্দা হৃতিক কুমার। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই হামলার জন্য তারা অগ্রিম হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিল।

রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় একটি ফুটবল ম্যাচ খেলে নিজের বিএমডব্লিউ সেডান গাড়িতে চড়ে ফেরার পথেই এই হামলার মুখে পড়েন ৩৬ বছর বয়সি অভিনেতা। হামলায় গাড়িটির চালক এবং এক অটোরিকশাচালক জখম হলেও অক্ষত রয়েছেন টাইগার শ্রফ। ইতোমধ্যে এই হামলার সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করেছে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এই পুরো চক্রের ছক কষছে মাস্টারমাইন্ড অনিল পণ্ডিত, এমনটাই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে পুরো মামলাটি ‘মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ’-এর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha