চোরবাগান কাণ্ডের পর কঠোর লালবাজার! পুজো মণ্ডপের নিরাপত্তায় একগুচ্ছ নতুন ও কড়া নির্দেশিকা জারি কলকাতা পুলিশের

চোরবাগান সর্বজনীন পূজা মণ্ডপে ঘটা অনভিপ্রেত ঘটনার পর আর বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে নারাজ পুলিশ প্রশাসন। দুর্গাপুজোর আনন্দ ও ভিড়ের মাঝে যাতে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করল লালবাজার। সমস্ত বড় পুজো মণ্ডপের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে।
লালবাজারের তরফ থেকে জারি করা এই জরুরি নির্দেশিকায় পুলিশ অফিসারদের কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক পুজো প্যান্ডেল ডিউটি ও নিরাপত্তার স্বার্থে কী কী প্রধান পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে:
লালবাজারের একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশ:
বেরনোর পথ উন্মুক্ত রাখা: প্যান্ডেলের সমস্ত প্রস্থান বা বাহির হওয়ার রাস্তা যেকোনো ধরনের বাধা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে হবে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ: প্যান্ডেলের ভিতরে এবং বাইরে কঠোরভাবে সুষ্ঠু ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বৃষ্টির সময় বিশেষ সতর্কতা: বৃষ্টি নামলে প্যান্ডেলের প্রবেশ পথ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিতে হবে এবং প্যান্ডেল পুরোপুরি খালি করে ফেলতে হবে। বৃষ্টির সময় প্যান্ডেলকে কোনোভাবেই আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা বা সেখানে জমায়েত করতে দেওয়া যাবে না।
আলোর ব্যবস্থা: প্যান্ডেলের ভিতরে পর্যাপ্ত ও স্পষ্ট আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোথাও আলোর ঘাটতি থাকলে তৎক্ষণাৎ তা ঠিক করতে হবে।
ভিড় চলাচল নিয়ন্ত্রণ: ভিড় চলাচলের পরিকল্পনা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। কোনো রকম সন্দেহ বা অতিরিক্ত ভিড় জমলে অবিলম্বে চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হবে।
ডিউটি ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা: বৃষ্টির অজুহাতে ডিউটিতে থাকা কোনো অফিসার বা পুলিশকর্মী নিজের স্থান ত্যাগ করতে পারবেন না। বৃষ্টি হলেও পুলিশকে সতর্ক থেকে সাধারণ মানুষের পুজো দেখা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে।
ভিভিআইপি (VVIP) যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ: কোনো ভিভিআইপি-র গাড়ি সরাসরি প্যান্ডেল পর্যন্ত নিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না, নির্দিষ্ট নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
পুলিশকর্মীদের প্রস্তুতি: ডিউটিতে থাকা সমস্ত পুলিশকর্মীকে অবশ্যই রেইনকোট সঙ্গে রাখতে হবে। সুপারভাইজিং অফিসাররা বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করবেন।
ঘোষণার উপর নজরদারি: পুজো কমিটির পিএ (PA) সিস্টেমে কী ঘোষণা করা হচ্ছে, তার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। হুট করে নিজেদের মতো করে ভিড় চলাচলের পরিকল্পনা বদল করা যাবে না।
ভলান্টিয়ারের ট্যাগিং: প্রতিটি পুলিশ অফিসার বা কনস্টেবলের সঙ্গে ৫ থেকে ৬ জন পুজো ভলান্টিয়ারের একটি করে টিম যুক্ত বা ট্যাগ করে দিতে হবে।
জরুরি সরঞ্জাম: পর্যাপ্ত পরিমাণে দড়ি, গার্ড রেল, লাউড হেইলার বা ছোট স্পিকার সবসময় মজুত রাখতে হবে।
চোরবাগান কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রুখতে পুলিশের এই অতি সক্রিয় ভূমিকা এবং নজিরবিহীন কড়াকড়ি সাধারণ দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।