‘কাজ না করলে ঘুষ পায়!’ সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা

বিচারপর্ব অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। দুই বছরের বেশি সময় জেলবন্দি থাকার পর তাঁর এই জামিন পাওয়ার পরেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করলেন আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা। সোজা ভাষায় সিবিআইয়ের কর্মপন্থা ও তদন্তের ধীরগতিকে কাঠগড়ায় তুলে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে একহাত নিলেন তিনি।

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার রুম থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন ও শোরগোল শুরু হয়েছিল। সেই সময় হাসপাতালের অধ্যক্ষ পদে ছিলেন সন্দীপ ঘোষ। পরবর্তীতে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হচ্ছে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই মামলায় মোট ১৪৭ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও সিবিআই এতদিনেও মাত্র ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পেরেছে।

এই প্রেক্ষাপটেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নির্যাতিতার বাবা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “যে সংস্থায় কাজ করলে মাইনে পায়, আর কাজ না করলে ঘুষ পায়, তাদের নিয়ে কোনও কথা বলতে চাই না।” তাঁর অভিযোগ, দেশের কোটি কোটি মানুষ যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ওপর ভরসা করে বসে আছে, তাদের এমন চরম গাফিলতির দায় সম্পূর্ণভাবেই সংস্থার নিজের।

তিনি আরও জানান, সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিক মণীশ উপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁদের আরও সময় প্রয়োজন এবং এত কম সময়ে (দু’বছর) এত বড় মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। সিবিআইয়ের এই দীর্ঘসূত্রিতাকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করে নির্যাতিতার বাবা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আদালতের এই রায়ের পর কেন্দ্রীয় এজেন্সির ওপর সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়েই বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়ে গিয়েছে।