অ্যাকাউন্ট থেকে হঠাৎ টাকা গায়েব? ঘাবড়াবেন না! ব্যাঙ্ক থেকে পুরো টাকা ফেরত পাওয়ার ‘গোপন’ কৌশল জানাল RBI

আপনার অজান্তেই কি হঠাৎ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে হাজার হাজার টাকা গায়েব হয়ে গেল? মোবাইলে একটি খুদে বার্তা বা মেসেজ এল যে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে, অথচ আপনি কোনও লেনদেনই করেননি! এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্যানিক করা স্বাভাবিক। তবে ঘাবড়ে না গিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র কড়া নিয়মগুলো জেনে রাখলে আপনার খোয়া যাওয়া পুরো টাকাই ব্যাঙ্ক ফেরত দিতে বাধ্য।

টাকা চুরি গেলে সবার আগে কী করবেন? অ্যাকাউন্ট থেকে অনিয়মিত বা সন্দেহজনক লেনদেন চোখে পড়লে কীভাবে টাকা চুরি হলো, তা ভেবে সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন:

  • ব্যাঙ্কে দ্রুত অভিযোগ: সবার আগে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি লিখিত বা ডিজিটালি জানান এবং একটি অফিশিয়াল অভিযোগ নম্বর (Complaint Number) সংগ্রহ করে রাখুন।

  • লেনদেন ব্লক করুন: আরও টাকা খোয়া যাওয়া আটকাতে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ইউপিআই (UPI), নেট ব্যাঙ্কিং বা ডেবিট কার্ড পরিষেবা সঙ্গে সঙ্গে ব্লক করার আবেদন জানান।

  • সাইবার হেল্পলাইনে কল: ঘটনার দ্রুত বিচার ও জালিয়াতির টাকা অন্যত্র ট্রান্সফার হওয়া আটকাতে অবিলম্বে ১৯৩০ (1930) সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বরে ডায়াল করে বিস্তারিত জানান।

  • তথ্য সংগ্রহ: লেনদেনের ট্রানজ্যাকশন আইডি (Transaction ID), তারিখ, সময় ও ব্যাঙ্ক থেকে আসা মেসেজের স্ক্রিনশট বা প্রমাণ গুছিয়ে রাখুন।

কখন পুরো টাকা ফেরত দেবে ব্যাঙ্ক (Zero Liability)?

আরবিআই-এর নিয়ম স্পষ্ট। জালিয়াতির ধরনের ওপর ভিত্তি করে ঠিক হয় ক্ষতির দায় কার:

১. ব্যাঙ্কের গাফিলতি থাকলে: ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গলদের কারণে টাকা চুরি হলে, গ্রাহককে এক পয়সারও ক্ষতির দায় নিতে হয় না। এক্ষেত্রে দেরি করে জানালেও গ্রাহকের দায় ‘শূন্য’ হিসেবে গণ্য হয়। ২. তৃতীয় পক্ষের গাফিলতি থাকলে: যদি ব্যাঙ্ক বা আপনার—কারও ভুলেই এই জালিয়াতি না হয়ে থাকে, তবে জালিয়াতির মেসেজ পাওয়ার ৩টি কর্মদিবসের (Working Days) মধ্যে ব্যাঙ্কে অভিযোগ দায়ের করলে আপনার ‘জিরো লায়াবিলিটি’ বা শূন্য দায়বদ্ধতা থাকবে। অর্থাৎ, আপনি পুরো টাকাই ফেরত পাবেন।

১০ দিনের মধ্যে ‘শ্যাডো রিভার্সাল’:

নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়ার ১০টি কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাঙ্ককে ওই খোয়া যাওয়া টাকা সাময়িকভাবে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ফিরিয়ে দিতে হয়। ব্যাঙ্কিংয়ের ভাষায় একে ‘শ্যাডো রিভার্সাল’ বলা হয়। ব্যাঙ্ক তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে, কিন্তু টাকা সাময়িক ফেরত দেওয়ার জন্য তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার নিয়ম নেই।

অভিযোগ জানাতে দেরি হলে কী পরিণতি হতে পারে?

তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে টাকা চুরি হওয়ার পর যদি আপনি সময়মতো খবর না দেন, তবে ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়:

  • ৪ থেকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে জানালে: আরবিআই-এর নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক বা খোয়া যাওয়া টাকার পরিমাণ (যেটি কম)—সেই অনুযায়ী আংশিক ক্ষতি গ্রাহককে বহন করতে হতে পারে।

  • ৭ কর্মদিবসের পর জানালে: ৭ দিন পার হয়ে গেলে আপনি টাকা ফেরত পাবেন কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের নিজস্ব নীতি ও বিচারবুদ্ধির ওপর।

তাই অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এড়াতে অ্যাকাউন্টে যেকোনো সন্দেহজনক লেনদেন দেখা মাত্রই ব্যাঙ্কের দ্বারে কড়া নাড়ুন এবং সাইবার পুলিশের সাহায্য নিন।