“পর্দায় বাজিমাত অনির্বাণের!”-দেব-শুভশ্রীর বহুল প্রতীক্ষিত ‘দেশু৭’-কেমন হলো ?

বছরের শুরু থেকেই ‘দেশু৭’ (DESU 7) ছবিটিকে ঘিরে সিনেপ্রেমীদের উন্মাদনা ছিল একেবারে তুঙ্গে। কারণটা স্পষ্ট— একদিকে দীর্ঘদিন পর দেব ও শুভশ্রীর মতো আইকনিক হিট জুটির বড় পর্দায় কামব্যাক, আর অন্যদিকে আইনি বাধানিষেধ কাটিয়ে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের প্রত্যাবর্তন। সুতরাং, এই ছবির ওপর যে আকাশছোঁয়া প্রত্যাশার চাপ ছিল, তা বলাই বাহুল্য। অ্যাকশন আর রোম্যান্সের ভরপুর মশলায় মোড়া এই ছবি ষষ্টীর দিন অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। কেমন হল দেব-শুভশ্রীর এই বহুচর্চিত ছবি? এক নজরে দেখে নেওয়া যাক রিভিউ।
ছবির গল্প ও পটভূমি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এক কুখ্যাত এবং অপরাধের আঁতুড়ঘর ‘সীমান্তপুর’ অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে ছবির কাহিনী। এই সীমান্ত এলাকায় রাতের অন্ধকারে আচমকা এক বাংলাদেশি জঙ্গি হানায় শহিদ হন বেশ কয়েকজন ভারতীয় জওয়ান। সেই খুনিদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় একদা দুর্ধর্ষ আইপিএস অফিসার দেবাদিত্য অধিকারী ওরফে দেবকে— যে দেশের সুরক্ষায় এক পায়ে খাড়া এবং প্রয়োজন পড়লে যেকোনো অপরাধীকে খতম করতে পিছপা হয় না।
সরকারের বিশেষ প্রজেক্ট ‘দেশের সুরক্ষা’ বা সংক্ষেপে ‘দেশু’-র মাধ্যমেই মূল মিশনে নামে সে। সীমান্তপুরে পৌঁছে দেব তিনজন নির্ভরযোগ্য সাহায্যকারী— খালাসি কাকা, হেলিকপ্টার ও মাসির দেখা পায়। তাদের সাহায্যেই সে পৌঁছে যায় এলাকার দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি— বড়দা অনুজয় চৌধুরী এবং ছোড়দা রনজয় চৌধুরীর খাসমহলে। আর এখানেই আসে সবচেয়ে বড় মোড়। বড়দার স্ত্রী হলেন স্বয়ং ডা. শুভস্মিতা (শুভ), যিনি দেবের একসময়ের প্রাক্তনী তথা গভীর ভালোবাসার মানুষ। শুভকে হঠাৎ এত কাছে পেয়ে দেবের মনের ভেতরের সুপ্ত আবেগ নতুন করে জেগে ওঠে।
অনির্বাণ ম্যাজিক ও টুইস্ট: ছবির অন্যতম প্রধান ইউএসপি নিঃসন্দেহে অনির্বাণ ভট্টাচার্য। এখানে রানা এবং অনুজয়— এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রেই অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। একদিকে এক কুখ্যাত রাজনীতিবিদ এবং অন্যদিকে মাফিয়া ডন— দুই ভাইয়ের চরিত্রে অনির্বাণের অভিনয় দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করবে। যদিও শুরুতে দুই ভাইয়ের মধ্যে আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক দেখানো হলেও পরবর্তীতে গল্প এমন এক মোড় নেয়, যা গোটা সীমান্তপুরকে তোলপাড় করে তোলে।
একদিকে দেশের সুরক্ষার মেগা মিশন, আর অন্যদিকে নিজের পুরনো ভালোবাসার বিবাহিত জীবন— এই দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতিতে দেব কীভাবে সবকিছু সামলাবে এবং শেষ পর্যন্ত সে কি শুভকে পাশে পাবে? সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখে নিতে হবে এই ছবি।