মোদির বিরুদ্ধে লড়বেন, কিন্তু কোন বিদেশির মাতব্বরি নয়! এআইএমআইএম প্রধানের হুঙ্কারে কাঁপল বিদেশের বাজার

হায়দরাবাদের সাংসদ তথা এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওআইসি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম তীব্র সমালোচক হিসেবেই পরিচিত। তবে সম্প্রতি প্রযুক্তি দুনিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তিত্ব এলন মাস্ক যখন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন, তখন ওআইসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে দেশের ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিরোধিতা করা এবং একজন বিদেশি ব্যবসায়ীকে ভারতের নীতি নির্ধারণে শর্ত চাপাতে দেওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী যেখানে মাস্কের অভিযোগকে হাতিয়ার করে মোদি সরকার ও শিল্পপতিদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ শানিয়েছেন, সেখানে ওআইসির অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন ও চমকপ্রদ।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন স্পেসএক্স (SpaceX) এবং টেসলার (Tesla) প্রধান এলন মাস্ক প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলেন যে তাঁর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা সংস্থা ‘স্টারলিংক’ (Starlink)-কে ভারতে বাণিজ্যিক কাজকর্ম শুরু করার প্রয়োজনীয় অনুমতি দিতে অযথা দেরি করা হচ্ছে। এই বিতর্ক দ্রুত রাজনৈতিক মাত্রা পায়। বিরোধীদের একাংশ যখন এই সুযোগে কেন্দ্র সরকার ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর সম্পর্ক নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন, তখন ওআইসি এই বিতর্ককে বিজেপির তথাকথিত ‘জাতীয়তাবাদ’-এর পরীক্ষার রূপ দিয়েছেন। হায়দরাবাদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওআইসি বলেন, “আমরা নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব। কিন্তু এলন মাস্ক কীভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করতে পারেন?” এরপরেই বিজেপির দিকে তির ছুড়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যে দল কথায় কথায় রাষ্ট্রবাদের কথা বলে, তারা একজন শক্তিশালী বিদেশি ব্যবসায়ীর দেশের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার জবাবে মুখ লুকিয়ে থাকছে কেন? কেন বিজেপি সরকার সাদা চামড়াকে এত ভয় পায়?”