সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে গর্ভবতী সাংবাদিককে ধাক্কা! রাহুলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি

সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে বিরোধী দলের প্রতিবাদ মিছিলের খবর সংগ্রহ করার সময় এক গর্ভবতী সাংবাদিককে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। এই চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল মামলার শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ এই ঘটনায় দ্রুত শুনানির আবেদন মঞ্জুর করেছেন। বিশিষ্ট আইনজীবী গৌরব ভাটার বিশেষ অনুরোধের পরেই আদালত এই মামলাটি তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ অক্টোবর। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা (Electoral Roll) সংক্রান্ত বিশেষ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিরোধীদের একটি মিছিল সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে প্রবেশ করে। সেই মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রাহুল গান্ধী স্বয়ং। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক রিচা পরাশর যখন নিজের ক্যামেরা ও ফোনের মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করছিলেন, তখন রাহুল গান্ধী ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁর ওপর চড়াও হন। রিচা পরাশরের দাবি অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী প্রথমে তাঁর হাত ধরে সজোরে টানেন এবং তারপরেই তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।

সাংবাদিক রিচা পরাশর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে জানিয়েছেন যে, তিনি বর্তমানে তাঁর গর্ভাবস্থার প্রথম ট্রাইমেস্টারে (প্রথম তিন মাস) রয়েছেন এবং এই অনভিপ্রেত ঘটনার জেরে তাঁর জীবনে এক মারাত্মক মেডিকেল ইমার্জেন্সি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, ধাক্কা খাওয়ার পর তিনি সোজা নিজের পেটের ওপর পড়েন, যার ফলে তাঁর দম আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল এবং তাঁর বহুমূল্য মোবাইল ফোনটিও ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, তিনি যখন মাটিতে পড়ে গিয়ে সাহায্যের আর্জি জানাচ্ছিলেন এবং রাহুল গান্ধীর নাম ধরে চিৎকার করছিলেন, তখন তাঁর কণ্ঠস্বর ও প্রতিবাদ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঠিক তখনই আশপাশে উপস্থিত কংগ্রেস কর্মীরা জোরেশোরে “রাহুল গান্ধী জিন্দাবাদ” স্লোগান দিতে শুরু করেন।

রিচার আরও আক্ষেপ, ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে চারপাশের মানুষের কাছে ন্যূনতম সহানুভূতিটুকুও পাননি। কেউ এগিয়ে এসে বলেননি যে তিনি ঠিক আছেন কি না বা তাঁকে একটু জল দেওয়া উচিত কি না। উল্টে তাঁকে অবহেলা করে সেই ভিড়ের মধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হয়। পেশাদার সাংবাদিকতার অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে এই ঘটনা এখন গোটা দেশের সংবাদমাধ্যম মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আগামী ২৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয় এবং এই বিষয়ে রাহুল শিবিরের পক্ষ থেকে কী সাফাই দেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।