১৬৩ ধারা ভাঙলেই সোজা কড়া পদক্ষেপ! দিল্লির সেন্ট্রাল পার্ক ঘিরে চরম উত্তেজনা, বন্ধ একাধিক রাস্তা

১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সিজেপির এই বিতর্কিত ‘তিরঙ্গা মার্চ’ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজধানীর কনৌট প্লেস জুড়ে অত্যন্ত আঁটসাঁট ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিপুল সংখ্যায় দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কনৌট প্লেসের বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে গতকাল রাতেই একটি নোটিস ঝুলিয়েছে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (NDMC)। পার্ক বন্ধ রাখার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের এই ক্ষোভের বিষয়টি আজ স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের আইনজীবীদের তরফে সরাসরি দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে উল্লেখ করা হয়। যদিও এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশ বা স্থগিতাদেশ জারি করা হয়নি, তবে মামলার শুনানিকালে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে জানান যে, ব্যবসায়ীদের যদি মনে হয় এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জেরে তাঁদের ব্যবসার আর্থিক ক্ষতি অত্যধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে তাঁরা নির্দিষ্ট আইনি এক্তিয়ারের মধ্যে থেকেই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আদালতে বিবেচনা করাতে পারেন। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের দিকেও এখন নজর রয়েছে সব মহলের।
এদিকে, সিজেপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে মারাত্মক দুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে একটি বিশেষ নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, দুপুর ৩টে থেকেই কনৌট প্লেস সংলগ্ন ২১টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও সংযোগকারী এলাকায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে রাজধানীর সাধারণ commuters-দের ব্যাপক যানজটের মুখে পড়তে হতে পারে। ট্র্যাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে যাত্রীদের বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন ঘর থেকে বেরোনোর সময় যাত্রাপথ আগে থেকেই সুপরিকল্পিত করে নেন, যাতায়াতের জন্য হাতে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত সময় রাখেন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে যথাসম্ভব মেট্রো বা অন্যান্য গণপরিবহণ ব্যবহার করেন।
অন্যদিকে, এই কর্মসূচিকে সম্পূর্ণরূপে বেআইনি ঘোষণা করে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে দিল্লি পুলিশও। দিল্লি পুলিশের ডিসিপি পিআরও (DCP PRO) নেহা যাদব এক প্রেস বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে সাধারণ মানুষকে আবেদন জানিয়েছেন যে, কেউ যেন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ জমায়েতে অংশ না নেন। পুলিশ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এর পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে এও জানানো হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা ও ট্র্যাফিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো উপযুক্ত এবং নির্দিষ্ট স্থানে সীমিত সংখ্যক মানুষকে শুধু জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য জমায়েতের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করা হতে পারে। সবমিলিয়ে, সিজেপির প্রস্তাবিত ‘তিরঙ্গা মার্চ’ এবং প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে চরম উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে।