সোশ্যাল মিডিয়ায় নম্বর দিলেই চরম বিপত্তি! দিনে ৩০-৪০টি সিওডি পার্সেলের উৎপাতে বাড়ি ছাড়লেন দক্ষিণ ভারতের ইউটিউবার

দক্ষিণ ভারতের মাদুরাইয়ের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শান্মুগানাথন ভীরামণির ব্যক্তিগত জীবন এখন চরম বিপর্যস্ত। কেরল ভ্রমণের জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানাতে গিয়ে নিজের ফোন নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপর থেকেই তাঁর নামে ‘অ্যামাজন’, ‘সুইগি’ ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মারফত একের পর এক ক্যাশ অন ডেলিভারি (সিওডি) পার্সেল আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আইফোন, টেলিভিশন, ফ্রিজ, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে ২০ কেজি বিরিয়ানির মতো অদ্ভুত সব জিনিস।
এই সমস্ত জিনিস গ্রহণের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করায় এবং বাড়ির ঠিকানায় প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০টি করে পার্সেল আসায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর স্ত্রী সুমঙ্গলী ভীরামণি। বাড়িওয়ালা ও প্রতিবেশীদের অসন্তোষের জেরে ইতিমধ্যে ওই ইনফ্লুয়েন্সার শহর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে গেছে যে, কেউ বা কারা তাঁর ফোন নম্বরটি কিডনি দাতার তালিকায় পর্যন্ত নথিভুক্ত করে দিয়েছে। শত অনুরোধ সত্ত্বেও পার্সেল আসা বন্ধ না হওয়ায় ডেলিভারি এজেন্টদের সঙ্গেও প্রতিনিয়ত ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে পরিবারটিকে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সামান্য একটু জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এই ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল নিদর্শন। অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে আনার ফলে শুধু মানসিক হয়রানি বা ডেটা লিক নয়, বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণা এবং জাল পরিচয়পত্র তৈরির ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়। পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হলেও এই ধরনের হয়রানি থেকে রেহাই পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে চরম আত্মসংযম এবং সচেতনতা বজায় রাখার কড়া বার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।