“১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ আসলে গেমপ্ল্যান!” সরকারের বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন ‘ককরোচ’ নেতা

ভোটার তালিকা থেকে এক ধাক্কায় কোটি কোটি ভোটারের নাম বাতিল করে দেশের নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছে কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সাংবাদিক বৈঠক থেকে ঠিক এই ভাষাতেই নরেন্দ্র মোদি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণে বিদ্ধ করলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা-নেতা অভিজিৎ দীপকে।
আইসা (AISA) নেত্রী নেহা বোরা, এসএফআই (SFI) নেত্রী ঐশী ঘোষ এবং বিশিষ্ট অভিনেতা প্রকাশ রাজকে পাশে বসিয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সিজেপি প্রধান। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশজুড়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান টেনে তিনি বলেন, “যে দেশে মাত্র ২ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচনের জয়-পরাজয় বা ফল নির্ধারিত হয়, সেখানে এক লহমায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম গায়েব করে দেওয়া হলো! এটা গভীর ‘সেটিং’ ছাড়া আর কী হতে পারে?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা প্রতিবাদকে দমন করতে দিল্লি জুড়ে অঘোষিত জরুরি অবস্থা তৈরি করেছে প্রশাসন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ ও বিরোধী নেতাদের গণহারে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকী প্রতিবাদ রুখতে নজিরবিহীনভাবে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তাঁর প্রশ্ন, “কেন একজন সিইসি-কে বাঁচাতে সরকার এতটা মরিয়া? আসলে ‘এক দেশ, এক ভোট’ চালুর নামে দেশে ‘এক দেশ, এক দল ও এক নেতা’ কায়েম করার চূড়ান্ত নীল নকশা তৈরি হচ্ছে।”
তেরঙা জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলে হাঁটা মানুষদের ওপর দিল্লি পুলিশের চড়াও হওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দীপকে বলেন, “যাঁরা আজ পর্যন্ত কোনোদিন তেরঙা ছুঁয়েও দেখেননি, তাঁরাই আজ তেরঙাধারীদের আক্রমণ করছেন! কনট প্লেসে তেরঙা হাতে হাঁটা কমরেডদের আটক করা হয়েছে। তেরঙা বয়ে নিয়ে যাওয়া কবে থেকে ভারতে অপরাধ হয়ে গেল?” এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাজধানীতে বড়সড় ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলের ডাক দিয়েছেন তিনি।
একই সুর শোনা গেছে আইসা নেত্রী নেহা বোরার গলায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভের খবর কভার করতে আসা পরিচয়পত্রধারী সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হচ্ছে পুলিশ। এমনকী মহিলা আন্দোলনকারীদের যৌন হেনস্তার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ ও অভিনেতা প্রকাশ রাজও এই সরকারি দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা করে সাধারণ মানুষকে গণতন্ত্র রক্ষার এই লড়াইয়ে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।