কুড়ি পেরোতেই চুল পেকে সাদা? রান্নাঘরের এই কয়েকটি জাদুকরী খাবারেই মিলবে চিরতরে মুক্তি!

বয়স কুড়ির কোঠা পেরোতে না পেরোতেই আয়নায় একটি পাকা চুল দেখা মানেই কপালে চিন্তার ভাঁজ! বর্তমানের দ্রুতগতির জীবনযাত্রা, কাজের মারাত্মক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জেরে অকালে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। চুল তার স্বাভাবিক কালো রঙ ধরে রাখার জন্য মূলত ‘মেলানিন’ (Melanin) নামক একটি রঞ্জক পদার্থের ওপর নির্ভর করে। শরীরে এর ঘাটতি দেখা দিলেই চুল ধূসর বা সাদা হতে শুরু করে। তবে সাময়িক কসমেটিক ডাই বা কলপ এর কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না।

চুলের অকালপক্কতা রোধ করতে এবং প্রাকৃতিকভাবে তার কালো রঙ ফিরিয়ে আনতে দৈনন্দিন ডায়েটে কিছু বিশেষ ‘সুপারফুড’ অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা:

  • আমলকি: চুল সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার মহৌষধ হলো আমলকি। এতে ভরপুর ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা চুলের গোড়া মজবুত করার পাশাপাশি মেলানিন উৎপাদনে দারুণ সাহায্য করে। কাঁচা আমলকি, এর রস বা আমলকির মোরব্বা নিয়মিত খেতে পারেন।

  • কারি পাতা: রান্নার ফোড়নে ব্যবহৃত কারি পাতা চুলের জন্য একপ্রকার আশীর্বাদ। এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন ও প্রোটিন চুল পাকা রোধ করে। সকালে খালি পেটে ৪-৫টি টাটকা কারি পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন অথবা নারকেল তেলে ফুটিয়ে সেই তেল চুলে মালিশ করতে পারেন।

  • কালো তিল: আয়ুর্বেদ মতে কালো তিল চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা আয়রন, কপার ও জিঙ্ক মেলানিন তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। সপ্তাহে দুই-তিন দিন এক চামচ ভাজা কালো তিল খাওয়ার অভ্যাস চুল কালো রাখতে সাহায্য করে।

  • কাঠবাদাম ও আখরোট: শুকনো ফলে থাকা কপার এবং ভিটামিন ই মেলানিন পিগমেন্ট গঠনে অপরিহার্য। প্রতিদিন সকালে জলে ভেজানো ৪-৫টি কাঠবাদাম ও ২টি আখরোট খাওয়ার অভ্যাস চুলের গোড়া শক্ত করে।

  • পালং শাক: শরীরে রক্তস্বল্পতা বা ফলিক অ্যাসিডের অভাব থাকলে চুল পেকে যেতে পারে। পালং শাকে থাকা আয়রন ও ফোলেট স্ক্যাল্পে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়।

  • ডিম: শরীরে ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি চুল পেকে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ। তাই প্রতিদিন একটি করে সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস চুলকে প্রাকৃতিকভাবে কালো ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সঠিক খাবার খাওয়া নয়, এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাত্রাও সুন্দর ও ঘন চুল পাওয়ার প্রধান চাবিকাঠি।