ইডেনে বিশ্বরেকর্ড! একসঙ্গে ৩ হাজার ঢাকের বাদ্যি আর ড্রোনের রোশনাইয়ে মহালয়ায় ইতিহাস গড়ল বাংলা

মহালয়ার পবিত্র তিথিতে বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসবের ঢাকে কাঠি পড়ল এক ঐতিহাসিক বিশ্বরেকর্ডের মাধ্যমে। দেবীপক্ষের সূচনায় কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও মেগা অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ৩ হাজার ঢাকের বাদ্যি, ১ হাজার মহিলার শঙ্খধ্বনি এবং উলুধ্বনিতে কেঁপে ওঠে গোটা চত্বর। এই এলাহি আয়োজনের হাত ধরেই গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের এই মর্যাদাপূর্ণ শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে।
মহালয়ার এই বিশেষ উদযাপনে ইডেন গার্ডেন্সে বসেছিল তারকার হাট ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। গান-বাজনা এবং জমজমাট আয়োজনের পাশাপাশি এদিনের অনুষ্ঠানকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল এক হাজার ড্রোনের এক অভাবনীয় শো। তিন হাজার ড্রোনের নিখুঁত আলোয় আকাশে ফুটিয়ে তোলা হয় মা দুর্গার রূপ ও আগমনের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, যা উপস্থিত দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
শুধু ঢাকের বাদ্যি বা ড্রোন শো-ই নয়, বাংলার সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ উদ্যোগ। দার্জিলিং থেকে শুরু করে পুরুলিয়া— রাজ্যের ২৩টি জেলার ভিন্ন স্বাদের লোকনৃত্য এই অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়। ছৌ নৃত্য, বাউল গান এবং ভাওয়াইয়ার সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে ইডেন চত্বর।
মহালয়ার এই শুভলগ্নে রাজ্যবাসীকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্যপাল আর এন রবি প্রত্যেকেই সামাজিক মাধ্যমে দেশ ও রাজ্যবাসীকে দুর্গোৎসবের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজ্যপাল তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, বাংলার এই ঐতিহ্য ও নতুন আত্মবিশ্বাসের পথ ধরেই দেশ এগিয়ে চলেছে। সবমিলিয়ে, মহালয়ার ভোরে ইডেন গার্ডেন্সের এই মেগা আয়োজন বিশ্ব দরবারে বাংলার সংস্কৃতিকে এক অনন্য মর্যাদায় ভূষিত করল।