শিক্ষকদের পকেট থেকে চলছে পেটের ভাত! ৬ মাস ধরে বন্ধ মিড-ডে মিলের সরকারি টাকা, ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষামহল

মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলায় এক অভূতপূর্ব ও মর্মান্তিক মানবিক সংকটের ছবি সামনে এসেছে। খরার কবলে পড়ে এমনিতেই বিপর্যস্ত গ্রামীণ জীবন, তার ওপর গত ছয় মাস ধরে সরকারি স্কুলে বন্ধ রয়েছে মধ্যাহ্নভোজ (মিড-ডে মিল) প্রকল্পের মূল তহবিল। অথচ কোমলমতি শিশুদের মুখে প্রতিদিন তুলে দিতে হচ্ছে পুষ্টিকর খাবার। চরম আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও কেবল শিশুমন এবং তাদের পুষ্টির কথা ভেবে নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে এই খাবার সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় শিক্ষকরা।
খরার গ্রাসে কৃষক পরিবার, শিশুদের একমাত্র ভরসা স্কুলের খাবার
লাতুর জেলায় তীব্র খরার কারণে ফসলহানি ঘটে দিশেহারা হাজার হাজার কৃষক ও কৃষি শ্রমিক। রুটিরুজির চরম সংকটে থাকা এই পরিবারগুলোর জন্য স্কুলের এই মধ্যাহ্নভোজই এখন শিশুদের পুষ্টির অন্যতম মূল ভরসা। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে টানা অর্ধবছর কোনো অর্থ বরাদ্দ না আসায় পুরো ব্যবস্থার ওপর নেমে এসেছে ঘোর অনিশ্চয়তা।
কী বলছেন শিক্ষকরা?
পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেদের বেতনের টাকা ও নিজেদের মধ্যে তহবিল গঠন করে রান্নার যাবতীয় সামগ্রী কিনছেন শিক্ষকরা। লাতুরের শিক্ষক জগন্নাথ পান্দ্রে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, “গত ছয় মাস ধরে আমরা মধ্যাহ্নভোজের কোনো বাজেট পাইনি। কিন্তু আমরা কোনো অবস্থাতেই বাচ্চাদের না খাইয়ে রাখতে পারি না। এই খরা পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার সন্তানদের ঠিকমতো খাবার দিতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা শিক্ষকরা নিজেদের পকেট থেকে খরচ চালিয়ে যাচ্ছি, এই আশায় যে সরকার দ্রুত বকেয়া ছাড়বে এবং আমরা আমাদের টাকা ফেরত পাব।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী (আসিফ প্যাটেলের সংগৃহীত তথ্যসহ), প্রশাসনিক স্তরে এই দীর্ঘসূত্রতা এবং অনিয়ম নিয়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা সরকারের কাছে দ্রুত বকেয়া তহবিল ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন, যাতে গ্রামীণ ভারতের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি প্রকল্পটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।