গুরুদেবকে বাঁচাতেই প্রাণ গেল শিষ্যের! ইটের ঘায়ে মর্মান্তিক মৃত্যু, রণক্ষেত্র কোন্নগর

স্বঘোষিত এক গুরুদেবকে ঘিরে চলা বিতর্কের জেরে মর্মান্তিক মৃত্যুর সাক্ষী থাকল হুগলির কোন্নগর। এক শিষ্যার শ্লীলতাহানির অভিযোগ কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া হাতাহাতির মাঝখানে পড়ে ইটের আঘাতে প্রাণ হারালেন ওই গুরুরই এক ভক্ত। মৃত শিষ্যের নাম সুখচাঁদ সমাদ্দার। এই রোমহর্ষক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কানাইপুর কলোনি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত গণেশ হালদারকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি ওই গুরুদেব ও আরও দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার বাসিন্দা গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী নামে এক স্বঘোষিত গুরুদেব রবিবার কোন্নগরের কানাইপুর এলাকায় নিজের কিছু শিষ্যের বাড়িতে আসেন। অভিযোগ, সেই সময় এক শিষ্যের স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব ও অশালীনভাবে স্পর্শ করেন ওই গুরুদেব। বিষয়টি জানাজানি হতেই সেখানে বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়।
অভিযোগ উঠেছে, সেই গণ্ডগোলের মাঝে গুরুদেবকে বাঁচাতে ও পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে এসেছিলেন সুখচাঁদ সমাদ্দার। কিন্তু প্রতিপক্ষের ছোঁড়া একটি ভারী ইটের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকায় ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। সোমবার সকালে উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং একটি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃতের পরিবারের তরফ থেকে এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যে থাকা সমস্ত অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।