ক্যানসারের ওষুধে বড় স্বস্তি! দাম কমছে ৭০% পর্যন্ত, বাঁচবে আড়াই হাজার কোটি টাকা

ক্যানসারের চিকিৎসায় রোগীর পরিবারের কাঁধে সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায় ওষুধের খরচ। সেই আর্থিক চাপ কমাতে এবার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। ক্যানসারের ওষুধের এমআরপি বা সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যের ওপর ট্রেড মার্জিন ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হলে জীবনদায়ী ক্যানসার ওষুধের দাম এক ধাক্কায় ২০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই বড়সড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। গত ৮ অক্টোবর ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ) এই প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের ফলে দেশের ক্যানসার রোগীদের বার্ষিক প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, পাইকারি ও খুচরো বাজারে ক্যানসারের ওষুধের দামে আকাশপাতাল ফারাক রয়েছে। প্রস্তুতকারী সংস্থা বা সরবরাহকারীর কাছ থেকে কম দামে ওষুধ কিনে খুচরো বিক্রেতারা রোগীদের কাছ থেকে বহুগুণ বেশি দাম নিচ্ছেন। কেন্দ্রের পেশ করা হলফনামা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে এই ট্রেড মার্জিনের পরিমাণ ছিল ১৭০ থেকে ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত!

অতীতে সুপ্রিম কোর্টে একটি চাঞ্চল্যকর নজিরও তুলে ধরা হয়েছিল। দেখা যায়, যে ওষুধটি খুচরো বিক্রেতারা মাত্র ২,৭০০ টাকায় পাচ্ছেন, তার এমআরপি বসানো হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার টাকা। এই অস্বাভাবিক দামের ব্যবধান রোধ করতেই হস্তক্ষেপ করে আদালত ও মন্ত্রক। ঠিক কোন কোন ওষুধ এই নিয়মের আওতায় আসবে, তা নির্ধারণ করতে স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এই কমিটি তাদের সুপারিশ জমা দেবে। পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই তালিকায় আরও নতুন ওষুধ যুক্ত করা হতে পারে।

অন্যান্য ওষুধের দাম নিয়েও প্রশ্ন আদালতের

ক্যানসারের ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও, বিচারপতির বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে অন্যান্য জরুরি ওষুধ এবং চিকিৎসার সরঞ্জামের চড়া দাম নিয়ে। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানায়, হার্টের স্টেন্ট বা সাধারণ স্যালাইনের ক্ষেত্রেও এমন আকাশছোঁয়া দামের ফারাক দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, যে দেশীয় হার্টের স্টেন্টের পাইকারি দাম ৫ হাজার টাকা, তা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫ হাজার টাকায়। এমনকি মাত্র ১১ টাকার স্যালাইনের লাইনও অনেক সময় ২৭০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের এমন অতিরিক্ত দাম সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।

যদিও সব ওষুধের ক্ষেত্রে এক নিয়মের পক্ষে নয় কেন্দ্র। সরকারের যুক্তি, সব ওষুধের উৎপাদন খরচ, পরিবহণ, সংরক্ষণ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহের প্রক্রিয়া এক নয়। ঢালাও নিয়ম চালু করলে ছোট ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি বিপাকে পড়তে পারে, যা সামগ্রিক ওষুধের জোগানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ নীতি অনুযায়ী সরকার বর্তমানে নির্দিষ্ট ৯৩৫টি ফর্মুলেশনের দাম নিয়ন্ত্রণ করে। বাকি ওষুধের বাজারদরও এনপিপিএ-র কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।