ঘুমের মধ্যে গলা ও মুখ বারবার শুকিয়ে যাচ্ছে? অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধছে না তো মারণ রোগ!

ঘুমানোর সময় মুখ বা গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা অনেকের কাছেই একটি সাধারণ ও সাময়িক বিষয় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের বেলায় নিয়মিত গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়ার সমস্যাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এটি কেবল শরীরে জলের অভাব বা সাধারণ ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে একাধিক গুরুতর শারীরিক জটিলতা। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে এই লক্ষণটিকে চিহ্নিত করতে না পারলে তা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই সমস্যার পেছনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ‘অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ (Obstructive Sleep Apnea)। এই বিশেষ ঘুমের ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন এবং বারবার তাঁদের শ্বাসপ্রশ্বাস সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তাঁরা বাধ্য হয়ে নাক দিয়ে নয়, বরং মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। মুখ খোলা রেখে শ্বাস নেওয়ার কারণে গলার ভেতরের শ্লেষ্মা বা লালার স্তর দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং ঘুম ভাঙলে গলা কাঠ হয়ে থাকে। স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যাকে অবহেলা করলে পরবর্তী সময়ে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ। রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে শরীর অতিরিক্ত জল বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে, যার ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব পায় এবং মুখ ও গলা মারাত্মকভাবে শুকিয়ে যায়। যদি রাতে অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়ার কারণে বারবার ঘুম ভেঙে যায়, তবে তা ডায়াবেটিসের ক্লাসিক লক্ষণ হতে পারে। তৃতীয়ত, সর্দি-কাশি, সাইনাস ইনফেকশন বা নাকের হাড় বাঁকা থাকার মতো সমস্যার কারণে যাঁদের নাক বন্ধ থাকে, তাঁরাও রাতে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে বাধ্য হন এবং এই সমস্যার শিকার হন। এছাড়া কিছু বিশেষ ওষুধ যেমন উচ্চ রক্তচাপ বা অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও মুখ শুকিয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং বড় ধরনের বিপদ এড়াতে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত, শোওয়ার ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, শোওয়ার আগে এবং সারাদিন ধরে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন, তবে চা, কফি বা অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় থেকে দূরে থাকুন কারণ এগুলি শরীরকে আরও ডিহাইড্রেট করে। তৃতীয়ত, যদি এই সমস্যা নিয়মিত চলতে থাকে এবং এর সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা নাক ডাকার সমস্যা যুক্ত থাকে, তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে অবিলম্বে নাক, কান, গলা (ENT) বিশেষজ্ঞ কিংবা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই পারে আপনাকে এই নীরব বিপদ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে।