হাত-পায়ের চুলকানি কি সাধারণ সমস্যা? অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধছে না তো মারণ ফ্যাটি লিভার!

আধুনিক ব্যস্ততার যুগে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ফাস্টফুডের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং শারীরিক পরিশ্রমহীনতার কারণে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা যকৃতে চর্বি জমার সমস্যা আজ মহামারীর রূপ নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই নীরব ঘাতক রোগে আক্রান্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যাটি লিভারের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না বলে একে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়ে থাকে। ফলে রোগটি যখন গুরুতর আকার ধারণ করে, ততক্ষণে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। তবে চিকিৎসকদের সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, আমাদের শরীর নানাভাবে রোগের আগাম সঙ্কেত পাঠায়। যার মধ্যে অন্যতম একটি অদ্ভুত ও চমকপ্রদ লক্ষণ হলো রাতে হাত ও পায়ে অস্বাভাবিক চুলকানি হওয়া।

সাধারণত ত্বকের শুষ্কতা, অ্যালার্জি বা কোনো চর্মরোগের কারণে চুলকানি হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, যদি মাঝরাতে বা ঘুমের মধ্যে হাত ও পায়ের তালুতে তীব্র চুলকানি অনুভূত হয় এবং তা কোনো সাধারণ লোশন বা ময়েশ্চারাইজার মেখেও না কমে, তবে তা ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক জটিলতার প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। লিভার যখন অতিরিক্ত চর্বি জমার কারণে তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে, তখন শরীরে ‘বাইল সল্ট’ বা পিত্ত লবণের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এই অতিরিক্ত পিত্ত লবণ রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ত্বকের নিচে জমা হয়ে মারাত্মক চুলকানির সৃষ্টি করে। বিশেষ করে রাতের বেলা শরীরের মেটাবলিজম ও হরমোনের কার্যকারিতায় পরিবর্তন আসার কারণে এই চুলকানির তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভারের এই লক্ষণটিকে অবহেলা করা মানে মৃত্যুর মুখে পা বাড়ানো। চুলকানির পাশাপাশি যদি চোখে-মুখে হলুদ ভাব, প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হওয়া, পেটের ডানপাশে ক্রমাগত ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে জল জমার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT) এবং আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করিয়ে রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ফ্যাটি লিভারের মতো মারণব্যাধি থেকে সুরক্ষিত থাকতে হলে জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা আবশ্যক। খাদ্যতালিকা থেকে ট্রান্স ফ্যাট, অতিরিক্ত চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পূর্ণ বর্জন করে টাটকা শাকসবজি, ফলমূল, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার এবং প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার মাধ্যমেই কেবল লিভারকে সুস্থ ও সচল রাখা সম্ভব। একটু সচেতনতাই পারে আপনাকে এই ভয়ংকর বিপদ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে।