দিল্লি জুড়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতা! যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন রুখতে নামল ৩৫ হাজার সেনা ও পুলিশ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিতর্কিত ‘বিশেষ তীব্র সংশোধন’ (SIR) প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় আজ দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজধানীতে নজিরবিহীন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলন প্রতিহত করতে দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা ৫০০-র বেশি আন্দোলনকারীকে দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই আটক করেছে। এদিকে, উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের প্রবীণ নেতা সঞ্জয় রাউত চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই মোদী সরকার পতন ঘটতে চলেছে।
বার্তা সংস্থা এএনআই (ANI)-এর সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই বিক্ষোভ দমনে রাজধানীতে ৩৫ হাজারেরও বেশি দিল্লি পুলিশ ও আধাসেনা জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)-এর ১২০টিরও বেশি কোম্পানি সংবেদনশীল এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ট্রানজিট হাবগুলিতে কঠোর পাহারা দিচ্ছে। বিনা অনুমতিতে কোথাও যাতে জমায়েত না হতে পারে, তার জন্য পুরো নতুন দিল্লি জেলাকে ২০টি সুনির্দিষ্ট জোনে ভাগ করা হয়েছে। জয়েন্ট কমিশনার ও ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার শীর্ষ আধিকারিকরা সরাসরি এই নিরাপত্তার তদারকি করছেন। এছাড়া উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে অতিরিক্ত মহিলা পুলিশকর্মীও ডেকে পাঠানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যেকোনো উপায়ে অননুমোদিত জমায়েত ও বিক্ষোভের চেষ্টা ব্যর্থ করতে হবে। তবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সিএপিএফ (CAPF) জওয়ানদের অস্ত্রহীন রাখা হয়েছে এবং দিল্লি পুলিশকে শুধুমাত্র লাঠি বা ব্যাটন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওর কথা মাথায় রেখে পুলিশ কর্মীদের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো রকম মৌখিক তর্কে না জড়ানোর বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।