ঘর পরিষ্কার রাখতে গিয়ে ক্লান্ত? এই ৭ জাদুকরী উপায়ে ঘর রাখুন নতুনের মতো ঝকঝকে!

একটি সুন্দর, পরিপাটি এবং গুছিয়ে রাখা ঘর কেবল আপনার মানসিক শান্তিই বাড়ায় না, বরং এটি আপনার ব্যক্তিত্বের ও রুচিরও প্রকাশ ঘটায়। কিন্তু ব্যস্ততার যুগে সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে ঘর পরিষ্কার ও গুছিয়ে রাখা অনেকের কাছেই এক বিরাট ঝামেলার কাজ বলে মনে হয়। ঘরের এক কোণ পরিষ্কার করতে না করতেই অন্য কোণটি অগোছালো হয়ে যায়। প্রখ্যাত গৃহস্থালি বিশেষজ্ঞ এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের মতে, ঘরকে সর্বদা পরিপাটি রাখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। বরং দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ নিয়ম ও স্মার্ট অভ্যাস গড়ে তোলাই যথেষ্ট।

প্রথমত, ‘রুল অফ ফাইভ’ বা নিয়ম মেনে চলুন। অর্থাৎ, বাড়ি ফেরার পর জুতো, ব্যাগ বা জামাকাপড় নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় করুন। ছোট ছোট এই কাজগুলি জমতে না দিলে ঘর বড় ধরনের অগোছালো অবস্থা থেকে রক্ষা পায়। দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় জিনিস বা জঞ্জাল ফেলা বা ‘ডিক্লাটারিং’-এর অভ্যাস করুন। ঘরে এমন অনেক জিনিস থাকে যা বছরের পর বছর কোনো কাজেই লাগে না, অথচ কেবল মায়াবশত জমিয়ে রাখা হয়। এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সময়মতো বাদ দিলে ঘরের অনেকটাই জায়গা খালি হয়।

তৃতীয়ত, জিনিসপত্রের একটি নির্দিষ্ট স্থান বা ‘হোম’ নির্ধারণ করুন। চাবি, রিমোট, চশমা বা জরুরি কাগজপত্রের জন্য ঘর নির্দিষ্ট করে দিন, যাতে খোঁজার সময় অযথা সময় নষ্ট না হয়। চতুর্থত, প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট ছোট কাজের তালিকা বা রুটিন তৈরি করুন। একসঙ্গে পুরো বাড়ির কাজ না করে প্রতিদিন যেকোনো একটি বা দুটি নির্দিষ্ট জোনে নজর দিন, যেমন আজ রান্নাঘর তো কাল শোবার ঘর। পঞ্চমত, মাল্টি-পারপাস বা বহুমুখী আসবাবপত্রের ব্যবহার বাড়ান। স্টোরেজ বেড বা হিডেন ড্রয়ারযুক্ত কফি টেবিল ছোট ফ্ল্যাট বা ঘরের জায়গার সদ্ব্যবহারে দারুণ কার্যকরী।

ষষ্ঠত, বিছানা তোলার অভ্যাসটি প্রতিদিন সকালে প্রথম কাজ হিসেবে করুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে ফেললে ঘরের অর্ধেক পরিচ্ছন্নতা এমনিতেই চলে আসে এবং তা সারাদিনের জন্য একটি ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করে। পরিশেষে, পরিবারের বাকি সদস্যদেরও গৃহস্থালির এই ছোটখাটো কাজে যুক্ত করুন। একা সব দায়িত্ব কাঁধে না নিয়ে সবার মধ্যে কাজের ভাগ করে দিলে ঘর গোছানো যেমন সহজ হয়, তেমনি তা উপভোগ্যও হয়ে ওঠে। এই সহজ ৭টি উপায় মেনে চললে আপনার বাসা হয়ে উঠবে এক মনোরম ও শান্তির নীড়।