এলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের আসল উদ্দেশ্য কি ডেটা চুরি? বড় ফাঁদের মুখে ভারত!

বিশ্বজুড়ে যখন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখনই প্রযুক্তি দুনিয়ায় শুরু হয়েছে এক নতুন জল্পনা। ধনকুবের এলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিংক ভারতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে আগ্রহী হলেও, এর আসল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘ডেটা ইজ দ্য নিউ অয়েল’ বা ডেটাই হল নতুন যুগের সবচেয়ে দামি সম্পদ। মাস্কের এই সার্ভিসের মূল লক্ষ্য কেবল মুনাফা অর্জন নয়, বরং কোটি কোটি ভারতবাসীর ব্যক্তিগত ডেটা বা তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। ১৪০ কোটি মানুষের পছন্দ, অপছন্দ এবং অনলাইন আচরণের সমস্ত তথ্য যদি কোনো বহুজাতিক কোম্পানির হাতে চলে যায়, তবে তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সাধারণ মানুষ প্রতিদিন ইন্টারনেট বা কম্পিউটারে যা করছেন—যেমন ছবি, ফোন নম্বর, ইউটিউব ভিডিও দেখা বা অ্যামাজনে কেনাকাটার ইতিহাস—সবকিছুই ডেটা হিসেবে জমা হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য কারও নিয়ন্ত্রণে থাকলে তা দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মাস্কের এই সুদূরপ্রসারী বাণিজ্যিক ও কৌশলগত চালের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ভারত এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ করেছে। ভবিষ্যতে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রচলিত এনক্রিপশন ভেঙে তথ্য চুরির আশঙ্কা এড়াতে ভারত এবার বাতাসে লেজার লাইটের সাহায্যে অত্যন্ত সুরক্ষিত উপায়ে ডেটা আদান-প্রদানের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।

কিউকেডি (QKD) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ব্যবস্থায় क्वांटम ফিজিক্সের নিয়ম ব্যবহার করা হয়, ফলে কোনো হ্যাকার বা তৃতীয় পক্ষ মাঝপথে ডেটা দেখ তো দূরের কথা, চুরিও করতে পারবে না। ফাইবার অপটিক্সের দীর্ঘ দূরত্বের সীমাবদ্ধতা কাটাতে ইসরো (ISRO)-এর সহযোগিতায় মহাকাশ ও বায়ুমণ্ডলে এই লেজার ও কোয়ান্টাম সিগন্যালের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। আসন্ন প্রযুক্তির ডেমোনেস্ট্রেশন মিশনে ‘কোয়ান্টাম টেকনোলজি ডেমোনেস্ট্রেশন ইন স্পেস’ (QuTDS) পेलोড ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল সুরক্ষায় ভারত নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।