পরীক্ষার নিয়মে বদল আনতে বড় পদক্ষেপ, কী জানালেন ইনফোসিস কর্তা?

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত চিরচেনা সমস্যার স্থায়ী ও সুশৃঙ্খল সমাধানের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোরালো সদিচ্ছা প্রকাশ করেছেন ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ নন্দন নিকোণি। মঙ্গলবার জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘ব্লুমबर्ग নিউ ইকোনমি ফোরাম ২০২৬’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, সঠিক কর্মপন্থা এবং প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ থাকলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জটিল সমস্যার পুরোপুরি অবসান ঘটানো সম্ভব।
চলতি বছরের মে মাসে ন্যাশনাল এলিজিগিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে দেশজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও তুমুল বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল। এরপরই পরীক্ষার সার্বিক সংস্কার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে গঠিত উচ্চপর্যায় উচ্চতল কার্যনির্বাহী কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন নন্দন নিকোণি। এদিনের ফোরামে তিনি জানান, এগুলি মূলত কাঠামোগত প্রশাসনিক সমস্যা, যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে উদ্যোগী হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায় সম্পর্কে আলোকপাত করে নিকোণি বলেন, বহু আগে থেকেই নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র তৈরি করে তা সংরক্ষিত রাখার পুরনো পদ্ধতির পরিবর্তে, পরীক্ষার দিন শেষ মুহূর্তে বিশাল প্রশ্নভাণ্ডার বা কোয়েশ্চেন ব্যাঙ্ক থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর সাহায্যে তৎক্ষণাৎ নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করা যেতে পারে। এআই-এর এই সুচারু ব্যবহার পরীক্ষাকে আরও বেশি সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করে তুলতে পারে বলে তাঁর মত।
এছাড়াও, আগামী দিনে দেশের সমস্ত বড় মাপের প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষাকে পুরোপুরি কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষাব্যবস্থায় (CBT) রূপান্তরিত করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান তিনি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে গেলে সারা দেশে বর্তমানে থাকা প্রায় ১.৫ লক্ষ পরীক্ষা কেন্দ্রের নেটওয়ার্ককে আরও বহুগুণ প্রসারিত ও আধুনিকীকরণ করতে হবে। ভারতীয় ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি (UIDAI)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং আধার ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার সফল রূপকার হিসেবে পরিচিত নন্দন নিকোণির এই সুদূরপ্রসারী পরামর্শ ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বিরাট পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।