সৃজলার মনে দ্বিধা! জীতু নাকি দুর্নিবার? ‘বিগ বস বাংলা’-য় ফাঁস গোপন কথা!

‘বিগ বস বাংলা’-র অন্দরে নাটকীয় মোড় এবং চমক যেন থামার নামই নিচ্ছে না। ঘরের প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত সমীকরণ এবং অজানা গোপন তথ্য সামনে আসায় প্রতিদিন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাস্তবের এই রিয়েলিটি শো। সাম্প্রতিক পর্বে সোনামণি সাহার একটি বিস্ফোরক দাবি ঘিরে চারদিকে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। সোনামণি প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন সহ-প্রতিযোগী সৃজলাকে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা শুনলে যেকোনো দর্শকই চমকে যাবেন।
সোনামণি সাহার দাবি অনুযায়ী, সৃজলা নাকি তাঁকে একান্ত আলাপে জানিয়েছিলেন যে দুর্নিবার মাইক না পরে তাঁকে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সৃজলা সোনামণিকে আরও বলেছিলেন, “আমি কী করব? আমার ভয় করছে সোনা, একদিকে জীতু, অন্যদিকে দুর্নিবার কোনদিকে যাব বুঝতে পারছি না।” সোনামণির মুখে এই কথা শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে যান দুর্নিবার। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি সৃজলাকে এমন কোনো কথাই বলেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুর্নিবার সোনামণিকে প্রস্তাব দেন যে, তিনি যদি এই গোপন কথা আর কোথাও না তোলেন, তবে তাঁকে কোনোদিন নমিনেট করা হবে না। তবে দুর্নিবারের সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দেন সোনামণি। তিনি স্পষ্ট জানান যে নমিনেশন নিয়ে তাঁর কোনো ভয় নেই, তবে তিনি নিজে থেকে আর এই প্রসঙ্গটি টেনে আনবেন না।
এদিকে, এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ও তরজার মধ্যেই ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে ঘটে গেল এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। একদিকে যখন প্রতিযোগীদের মনে নমিনেশনের কঠিন চাপ ও উত্তেজনা কাজ করছিল, ঠিক তখনই ঘটে গেল এক বিরাট ছন্দপতন। ভোটাভুটির মাধ্যমে নয়, বরং হঠাৎ শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় মাঝপথেই ‘বিগ বস’ হাউস থেকে বিদায় নিতে হলো প্রতিযোগী ঝিলম গুপ্তকে। চিকিৎসকদের কঠোর পরামর্শ এবং শারীরিক ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই এই আকস্মিক ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন শো-এর নির্মাতারা।
বিগ বসের গম্ভীর ও জলদমন্দ্র কণ্ঠে যখন এই ঘোষণা এল, তখন প্রথমে যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারেননি ঝিলম। বাকি প্রতিযোগীরাও এই অঘটনটির জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। ঝিলমের উদ্দেশে বিগ বস অত্যন্ত স্নেহের সুরে বলেন, আশা করি এই শো থেকে তিনি নিজের প্রতি নতুন বিশ্বাস এবং অগণিত মানুষের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে যাবেন। ঘর ছাড়ার আগে ঝিলম সবার সঙ্গে একটু সময় কাটিয়ে নিতে চান এবং সহ-প্রতিযোগীদের একে একে বুকে জড়িয়ে ধরেন। সতীর্থদের চোখ তখন জলে ভেসে যাচ্ছে, অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে সেই শোকার্ত ও গম্ভীর পরিবেশের মধ্যেই এক অভাবনীয় মুহূর্ত তৈরি হয়। সবার সঙ্গে বসে ঝিলম গেয়ে ওঠেন আগমনী গান! ভেজা চোখে, গলা ধরে আসা সত্ত্বেও সবাই একসঙ্গে সুর মিলিয়ে একটি আবেগঘন বিদায় জানান ঝিলমকে।