আলিমুদ্দিনের দরজায় চণ্ডীপাঠ ও ‘শারদীয়ার’ পোস্টার! দেবীপক্ষের শুরুতে রাজনীতির পারদ তুঙ্গে

মহালয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংঘাতে সরগরম তিলোত্তমা। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সদর দফতরের সামনে আরপিআই-এর উদ্যোগে আয়োজিত হল চণ্ডীপাঠ। সিপিএমের বিরুদ্ধে “হিন্দু ধর্ম বিরোধী” প্রচারের অভিযোগ তুলে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাধু-সন্ত ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। এর পাল্টা জবাবে সিপিএম দফতরের সামনে সাঁটানো হয়েছে বিতর্কিত শারদীয়ার পোস্টার, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোরদার তরজা।

মঙ্গলবার, তৃতীয়ায় এজেসি বোস রোডের মোড়ে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে প্রবেশের মুখে সকাল থেকে শুরু হয় এই বিশেষ চণ্ডীপাঠ। বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু, সাধু-সন্ত এবং ধর্মগুরুদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান চলে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। চণ্ডীপাঠে অংশ নিয়ে বক্তারা দাবি করেন, আলিমুদ্দিনের চত্বরে এই আয়োজন সনাতন ধর্মের সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদার এক দৃঢ় প্রকাশ।

অন্যদিকে, এই কর্মসূচিকে বিশেষ পাত্তা দিতে নারাজ সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি দলীয় কাজে পশ্চিম বর্ধমানের রানীগঞ্জে থাকলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই সমস্ত বিক্ষিপ্ত কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। তবে নীরব না থেকে পালটা চাল চেলেছে সিপিএম। দলীয় সদর দফতর মুজফ্ফর আহমদ ভবনের সামনে সাঁটানো হয়েছে একটি শারদীয়ার পোস্টার। তাতে লেখা হয়েছে— “সাম্প্রদায়িক, জাতিবিদ্বেষী, বর্ণবিদ্বেষীরা ছাড়া সবাই স্বাগত। শুভ শারদীয়া।” এই পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তুঙ্গে ওঠে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আলিমুদ্দিন চত্বরে একই দিনে একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এদিন বিকেলে গণশক্তি পত্রিকার অফিসের ঠিক পাশেই নাগরিক মঞ্চের উদ্যোগে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বিরোধী এক কনভেনশনের আয়োজন করা হয়। বিকেল পাঁচটায় শুরু হওয়া এই কনভেনশনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বলিউড অভিনেতা প্রকাশ রাজ, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা, প্রাক্তন আমলা তথা রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার এবং বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বদের।

সব মিলিয়ে, দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এবং তার সংলগ্ন এলাকা রাজনৈতিক ও আদর্শগত লড়াইয়ের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে ধর্মের চাদরে মুড়ে প্রতিবাদের সুর, অন্যদিকে বামেদের আক্রমণাত্মক পোস্টার রাজনীতি— সব মিলিয়ে পুজো শুরুর আগেই উত্তপ্ত বাংলার রাজ্য রাজনীতি।