জ্ঞানেশ কুমার ও SIR মামলার শুনানি পিছাল সুপ্রিম কোর্টে! সাংবাদিক নিগ্রহ নিয়ে দিল্লি পুলিশকে কড়া তলব

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দিল্লিতে চলমান আন্দোলন, পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ ও আইনি জটিলতা সংক্রান্ত একগুচ্ছ আর্জির শুনানি পিছিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনোর গঠিত তিন বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার মূল শুনানি নির্ধারিত ছিল। তবে বিচারপতি ভি মোহনোর হঠাৎ অসুস্থতার কারণে মামলাটির শুনানি আগামী ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বিরোধী বিক্ষোভ ও পুলিশি ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনার ছবি ফুটে ওঠে। সাংবাদিক নিগ্রহের মতো গুরুতর অভিযোগে অসন্তোষ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত দিল্লি পুলিশের একজন শীর্ষ আধিকারিককে স্বশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেয়। দিল্লিতে আন্দোলন কভার করতে গিয়ে একাধিক মহিলা সাংবাদিক পুলিশের হাতে শারীরিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে যে পিটিশন দায়ের হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই এই কড়া নির্দেশ। একই সঙ্গে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার বিশেষ আবেদনের ভিত্তিতে ৯ অক্টোবরের নির্দেশ পালনের রিপোর্ট পেশ এবং অন্যান্য আদালত অবমাননা মামলার জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমাও বাড়িয়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থির করা হয়েছে।
এদিনের শুনানিতে ২০২৩ সালের ‘চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার নির্বাচন কমিশনার্স অ্যাক্ট’-এর ১৬ নম্বর ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই আবেদন পেশ করা হয়েছে। আইনটির এই বিশেষ ধারায় অফিশিয়াল দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারদের সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি পদক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ ‘দায়মুক্তি’ বা সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এডিআর-এর বক্তব্য, এই ধারা নির্বাচন কমিশনকে সমস্ত রকম আইনি জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে তুলে দিচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক। সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদনটি গ্রহণ করে কেন্দ্র ও কমিশনকে নোটিশ জারি করেছে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনোর বিশেষ বেঞ্চ দিল্লির নাগরিক জীবন স্বাভাবিক রাখতে এবং আইনজীবীদের কাজের নিরাপত্তা দিতে একাধিক কড়া নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, সংবিধান ও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের যথেচ্ছভাবে আটক করা যাবে না। শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের আশপাশ থেকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার সতর্কতামূলক সমস্ত বোর্ড অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের কোর্টে আসার ক্ষেত্রে কোনও ভয় বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়। রাজধানীর মেট্রো, রেল ও ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি পুলিশের অযৌক্তিক ব্যারিকেড পর্যালোচনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশও বহাল রাখা হয়েছে।
গত সোমবার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, সমস্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন নির্দিষ্ট প্রতিবাদ মঞ্চেই হওয়া মানানসই, আদালতকে এসবের মধ্যে জড়ানো একেবারেই অনুচিত। তবে প্রত্যেক আইনজীবীর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যোগ দেওয়া এবং নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ১৫ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।