বড়সড় কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে নেটফ্লিক্স ও অ্যামাজন! এক ধাক্কায় চাকরি হারাচ্ছেন হাজার হাজার কর্মী

উৎসবের মরশুমের আবহের মাঝেই বিনোদন দুনিয়া ও করপোরেট সেক্টর থেকে এল এক বড় ও উদ্বেগজনক খবর। জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে ফের শুরু হতে চলেছে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহেই সংস্থাটি তাদের মোট কর্মী সংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করার বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। এর ফলে এক ধাক্কায় ৮৫০-এরও বেশি মানুষের চাকরি হারানোর প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসতেই নেটফ্লিক্সের বর্তমান কর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদিও ব্লুমবার্গের তরফ থেকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোম্পানির কোনো মুখপাত্র এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে চাননি। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পর্যন্ত নেটফ্লিক্সে প্রায় ১৬,০০০ স্থায়ী কর্মী কর্মরত ছিলেন, যার ৬৮ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ার্নার ব্রাদার্স ও ডিসকভারি অধিগ্রহণের ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং তার জেরে কোম্পানির শেয়ারের দামে বড় ধরনের পতনের পরই এই কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নেটফ্লিক্স বড় কোনো অধিগ্রহণের পথে হাঁটেনি, যা বিনিয়োগকারীরা খুব একটা ভালোভাবে নেননি। এটি বর্তমানে কোম্পানির কাছে অন্যতম বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু নেটফ্লিক্সই নয়, একই পথে হাঁটছে অন্যান্য বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক সংস্থাও। সম্প্রতি জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারী জায়ান্ট বিএমডব্লিউ (BMW) জানিয়েছে, আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে তারা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করবে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কোপ পড়বে ম্যানেজার ও উচ্চপদস্থ কর্মীদের ওপর, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর ব্যাপক ব্যবহারের ফলে কম কর্মী নিয়েই কোম্পানির কাজ সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি, ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনও নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘বিজনেস ইনসাইডার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সংস্থার সর্বশেষ এই ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়ায় ভারত, আমেরিকা ও ব্রিটেনের বিভিন্ন টিমের কর্মীরা সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে ১ হাজারের কম হোয়াইট-কলার কর্মী এই ছাঁটাইয়ের আওতায় এসেছেন। অ্যামাজনও কর্মী কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যদিও সংস্থার দাবি, এর ফলে তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত অল্প সংখ্যক পদই প্রভাবিত হয়েছে। একদিকে উৎসবের আনন্দ আর অন্যদিকে একের পর এক মাল্টিমিডিয়া ও প্রযুক্তি জায়ান্ট সংস্থার এই ছাঁটাইয়ের নীতি বিশ্বজুড়ে কর্মপ্রার্থীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।