কোনো কোচিং নয়, শুধু চ্যাটজিপিটি আর জেদে বাজিমাত! হরিয়ানা সিভিল সার্ভিসে পঞ্চম স্থান অধিকার মধ্যবিত্ত ঘরের কন্যার

মধ্যবিত্ত পরিবারের লড়াই, কোনও শিক্ষকের সাহায্য বা নামী দামি কোচিং সেন্টারের গাইডেন্স ছাড়াই শুধুমাত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) টুল এবং দিনরাত এক করা কঠিন পরিশ্রমের জোরে প্রশাসনিক চাকরির পরীক্ষায় তাক লাগিয়ে দিলেন ২৩ বছরের ছাভি সারদানা। হরিয়ানা সিভিল সার্ভিসেস (HCS) পরীক্ষায় সর্বমোট ৬৭৫ নম্বরের মধ্যে ৩৫০.৮০ নম্বর অর্জন করে একেবারে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন এই মেধাবী তরুণী। আইনে স্নাতক হলেও সিভিল সার্ভিসেই নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন ছাভি। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তব করার পথটা যে একেবারেই মসৃণ ছিল না, তা তাঁর এই অবিশ্বাস্য সাফল্যে স্পষ্ট।

হিসারের ডোগরান মহল্লার বাসিন্দা ছাভির বাবা চিরাগ সারদানা একটি ছোট প্রিন্টিং প্রেস চালান এবং মা সুমন সারদানা একজন গৃহবধূ। পরিবারে এর আগে প্রশাসনিক পদে কেউ কাজ না করায় সম্পূর্ণ নিজের জেদ ও মেধার ওপর ভরসা রেখেই প্রস্তুতি শুরু করেন ছাভি। পতিয়ালা থেকে আইনে দারুণ ফল করার পর থেকেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করেন তিনি। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাভি কোনো দিনই কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হননি। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে পড়াশোনা শুরু করে একটানা প্রায় আট ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। কোনো কঠিন বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে বা গভীর তথ্য জানতে তিনি পুরোপুরি নির্ভর করতেন জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-র ওপর।

সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে ছাভি মূলত তিনটি মন্ত্রের ওপর জোর দিয়েছেন—নিয়মিত পড়াশোনা, ইন্টারনেটকে শুধুমাত্র শিক্ষার কাজে ব্যবহার করা এবং ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের মতো সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা। প্রাথমিকভাবে এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায় ৬০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। একাধিক কঠিন ধাপ পেরিয়ে গত ৩ থেকে ৮ অক্টোবর পঞ্চকুলায় তাঁর সাক্ষাৎকার পর্ব সম্পন্ন হয়। অবশেষে প্রকাশিত ফলাফলে পঞ্চম স্থান অধিকার করে গোটা হিসার তথা রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছেন ছাভি। উল্লেখ্য, হরিয়ানা সিভিল সার্ভিস ছাড়াও তিনি অন্যান্য ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষাতেও অংশ নিয়েছেন, যার ফল প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।