“নোবেল না পেয়ে বেপরোয়া ট্রাম্প!”-আন্তর্জাতিক আদালতের ওপরই নিষেধাজ্ঞা জারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

নিজেকেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের এক এবং একমাত্র যোগ্য দাবিদার মনে করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানবাধিকার আইনজীবী নভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই-এর ঝুলিতে যেতেই মারাত্মক ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কেবল মনে মনে রাগ পুষে না রেখে নিজের ক্ষমতার প্রভাব খটিয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এবং তার সমস্ত কার্যকলাপের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে বসলেন ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক আদালতকে একটি “বিপথগামী ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠান” হিসেবে আখ্যা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন যে, আগামী দিনে তিনি এই সংস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবেন। প্রেসিডেন্টের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানান, “মার্কিন সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষা করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আইসিসি-র সঙ্গে সমস্ত মার্কিন সংস্থার যোগাযোগ ও লেনদেন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হলো।”

তবে নোবেল হাতছাড়া হওয়া এই রাগের একমাত্র কারণ নয়; আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের তদন্তকারী এই বিশ্বস্ত আদালতের বিরুদ্ধে বহু দিন ধরেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। গত দু’বছরে তাঁর সরকার দফায় দফায় আইসিসি-র অন্তত ১৭ জন শীর্ষ আধিকারিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সেই কালো তালিকায় রয়েছেন ৯ জন আন্তর্জাতিক বিচারক, প্রধান প্রসিকিউটর এবং খোদ আইসিসি-র প্রেসিডেন্ট তেমোকো আকানেও।

মার্কিন প্রশাসনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত। তাদের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “এই ধরনের বিধিনিষেধ আসলে আইনের শাসন এবং বিশ্বজনীন আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলার ওপর একটি পরিকল্পিত আক্রমণ।” আইসিসি-র ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামিম খান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা আমাদের কাবু করতে পারবে না। আইসিসি-র বিচারিক কাজ নিজস্ব গতিতেই চলবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী নাভি পিল্লাই বিশ্ব মানবাধিকার আন্দোলনের এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৫ সালে তিনি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালে বিশেষ পরিস্থিতিতে ধর্ষণ ও যৌন হিংসাকে ‘গণহত্যা’র সমতুল্য অপরাধ বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলার ইতিহাসে নারী সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন এবং প্যালেস্টাইনের বিতর্কিত ভূখণ্ডে রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ব দরবারে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী।