মহালয়ার ভোরে গঙ্গার ঘাটে উপচে পড়া ভিড়! তর্পণে শামিল হয়ে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করলেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী

‘বাজল তোমার আলোর বেণু’—আজ মহাসমারোহে দেবীপক্ষের সূচনা। মা দুর্গার মর্ত্যে আগমনের আর হাতে গোনা ক’য়েকদিন মাত্র বাকি। বাঙালির কাছে এই পুণ্যলগ্ন কেবল দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন নয়, বরং গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং আত্মিক আবেগের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তর্পণ করার এই প্রাচীন প্রথা বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
শনিবার সূর্যোদয়ের বহু পূর্ব থেকেই কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাট, বাবুঘাট থেকে শুরু করে হাওড়া ও হুগলির বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে তর্পণের জন্য নেমেছে মানুষের ঢল। পুরুষদের পাশাপাশি প্রচুর মহিলা পুণ্যার্থীও নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে তর্পণে অংশ নেন। ‘তর্পণ’ শব্দের মূল অর্থ হলো তৃপ্ত করা। কুশ, তিল, চাল, দুধ এবং গঙ্গার জল একত্রে মিশিয়ে নির্দিষ্ট মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তর্পণ নিবেদন করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, জীবিত প্রজন্মের এই শ্রদ্ধার্ঘ্য ও জলদান পূর্বপুরুষদের অতৃপ্ত আত্মাকে শান্তি ও তৃপ্তি প্রদান করে।
মহালয়ার এই পিতৃতর্পণ কেবল একটি সাধারণ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়, এটি অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক গভীর আত্মিক সংযোগ। নিজের শিকড়কে স্মরণ করা, পারিবারিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানানো এবং প্রিয়জনদের স্মৃতিকে চিরজাগরূক রাখার অন্যতম মাধ্যম হলো এই দিনটি। রাজ্যের নদীঘাটগুলিতে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও সুদৃঢ় নিরাপত্তার ব্যবস্থা। ঘাটে ঘাটে মোতায়েন রয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী, যার মধ্যে মহিলা পুলিশের বিশেষ বাহিনীও সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া জলপথে দুর্ঘটনা এড়াতে হুগলি রিভার ট্রাফিক গার্ড এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের দল বোট ও নৌকার সাহায্যে লাগাতার নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই তর্পণ ও মন্ত্রোচ্চারণের পবিত্র ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে বাংলার সমস্ত নদীকূল।