মাছি মারতে হাতুড়ি চালাবে না পুলিশ! ট্রেন-মেট্রো বন্ধ করা নিয়ে মোদী সরকারকে তুলোধোনা সুপ্রিম কোর্টের!

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আজ শনিবারে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। পূর্বঘোষিত ‘যন্তরমন্তর চলো’ বিক্ষোভে অংশ নিতে মুম্বই থেকে দিল্লি রওনা দেওয়ার ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি ‘একনায়ক’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের যুবসমাজকে এত ভয় পেলে মোদী কেন প্রধানমন্ত্রীর পদে বসে আছেন?

আন্দোলন দমাতে গোটা রাজধানীতে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে প্রশাসন। দিল্লি পুলিশ ও আধাসেনা (সিএপিএফ) মিলিয়ে ৪০ হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর সিল করার পাশাপাশি জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের ৪ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়াও ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং দিল্লি ও নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা সমস্ত মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করায় কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের এই চরম পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক মারিয়াম আলেকজান্ডার বেবি ও অন্যান্যরা। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনায়ের বিশেষ বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তার অজুহাতে সাধারণ মানুষের গণপরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি স্তব্ধ করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে সতর্ক করে বলেন, “মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করবেন না। সবার তো আর নিজস্ব গাড়ি নেই! সাধারণ চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের জীবিকার অধিকার বিপন্ন করা চলবে না।” শীর্ষ আদালতের কড়া অবস্থানের পর নিয়ন্ত্রিত পরিষেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হলেও রাজধানীর মাটিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংঘাত চরমে পৌঁছেছে।