২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া খুন! অ্যাপ ক্যাব চালকদের হাত-পা বেঁধে নৃশংস কায়দায় হত্যার নেপথ্যে ভয়ংকর রহস্য!

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানী ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুই অ্যাপ ক্যাব চালককে অত্যন্ত নৃশংস কায়দায় খুন করার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দ্যেশ্যেই এই জোড়া খুন করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ডানকুনি ও এন্টালিতে সংঘটিত এই জোড়া খুনের ঘটনায় তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যে সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তাতে তদন্তকারীদেরও রক্তিম হয়ে গেছে মেরুদণ্ড।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার রাতে অ্যাপ ক্যাব ভাড়া করার ভান করে তিন আততায়ী এক চালককে ফাঁদে ফেলে। এরপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চালকের পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করা হয় এবং মৃতদেহ ডানকুনি এলাকায় দিল্লি রোড হাইওয়ের পাশে ফেলে দিয়ে গাড়িটি নিয়ে চম্পট দেয় তারা। ঘটনার তদন্তে নেমে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট দ্রুত পদক্ষেপ করে এবং বেনিয়াপুকুর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া অ্যাপ ক্যাবটিকে উদ্ধার করে। বিভিন্ন সূত্র ও প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তিন সন্দেহভাজনকে পাকড়াও করা হয়।
ধৃতদের জেরা করতেই বেরিয়ে আসে আরও রোমহর্ষক তথ্য। পুলিশ জানতে পারে, হাইজ্যাক করা গাড়িটি বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বেনিয়াপুকুরে নিয়ে এসেছিল ওই দুষ্কৃতীরা। কিন্তু গাড়ির বৈধ কাগজপত্র বা নথিপত্র না থাকায় কেউ তা কিনতে রাজি হয়নি। এদিকে গাড়ির তেলও ফুরিয়ে যাওয়ায় ক্যাবটিকে বেনিয়াপুকুরেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। এখানেই থামেনি আততায়ীরা। প্রথম খুনের পর পুলিশের জালে পড়ার আগেই, ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার মাঝরাতে এন্টালিতে ঠিক একই কায়দায় অপর এক অ্যাপ ক্যাব চালককে খুন করে আরও একটি গাড়ি হাইজ্যাকের চেষ্টা চালায় তারা।
ইতিমধ্যেই ডানকুনিতে চালক খুনের কিনারা করে চন্দননগর পুলিশ ধৃতদের পাঁচ দিনের নিজেদের হেফাজতে নেয়। রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জেরা করার মুখেই দ্বিতীয় খুনের চাঞ্চল্যকর পর্দা ফাঁস হয়। আততায়ীরা স্বীকার করে যে, এন্টালিতেও তারা একই কায়দায় আরেক ক্যাব চালককে খুন করেছে। এই রোমহর্ষক জোড়া খুন এবং চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে গোটা বিষয়টি তৎক্ষণাৎ কলকাতা পুলিশকেও জানানো হয়েছে। পরপর দুই চালকের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবহন ও ক্যাব চালকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।