“প্রমাণ দিন!” রাষ্ট্রপতি ভবনে INDIA জোটের নালিশের পরই বড় নির্দেশ দ্রৌপদী মুর্মুর,

ভোটার তালিকা নিয়ে ব্যাপক কারচুপি এবং ভোট চুরির গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হল ইন্ডিয়া (INDIA) জোট। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেন বিরোধীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর দাবিতে রাষ্ট্রপতির হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়ার পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ভোটচুরির প্রসঙ্গ উঠলে রাষ্ট্রপতি তা অস্বীকার করেননি, বরং প্রমাণ চেয়েছেলেন। খুব শীঘ্রই সমস্ত প্রমাণ রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ রাষ্ট্রপতি ভবনে এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধি দলে রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এম এ বেবি, ডি রাজা, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রাজীব রায়, সুপ্রিয়া সুলে, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা। এর আগে সংসদের সেন্ট্রাল হল থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল করে বিজয় চক পর্যন্ত গিয়ে ধরনায় বসেন বিরোধীরা। রাইসিনা হিলস চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার যৌথভাবে ভারতীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছেন। বিশেষ করে গুজরাট, হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, যেভাবে ভোটের ফল সামনে এসেছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে গভীর সন্দেহ দানা বেঁধেছে। শুধু জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত করাই নয়, গোটা সরকারের বিরুদ্ধেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই সাক্ষাত্‍ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে বিরোধীদের সমস্ত বক্তব্য শুনেছেন এবং অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। জওহরলাল নেহরুর ঐতিহাসিক ‘ট্রাই উইথ ডেস্টিনি’ ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের সংবিধান ও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে তাঁরা শেষ পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। আসন্ন দিনে বিরোধীদের এই ভোটচুরি বিরোধী আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতে কী মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।