‘দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে!’-ইন্ডিয়া জোটের মেগা প্রতিবাদ ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত মমতা-রাহুলের

ভোটচুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং এসআইআর (SIR)-এর বিরোধিতায় দেশজুড়ে চলা প্রতিবাদের আবহে অবশেষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করল ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের প্রতিনিধি দল। শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার পর বেরিয়ে এসে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, “ভোটচুরির কথা যখন বললাম, তখন রাষ্ট্রপতি তা অস্বীকার করেননি। বরং তিনি প্রমাণ চাইতে বলেছেন। আমরা প্রমাণ জোগাড় করেছি, তা খুব শীঘ্রই রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। আজ গোটা দেশ জানে যে ভোট চুরি হচ্ছে।”

সেন্ট্রাল হল থেকে বিজয় চক: ইন্ডিয়া জোটের মেগা প্রতিবাদ

ভোটচুরির অভিযোগ ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রতিবাদ জানাতে শুক্রবার প্রথমে সংসদের সেন্ট্রাল হলে জড়ো হন বিরোধী দলগুলির সাংসদেরা। সেখান থেকে একটি বিশাল মিছিল করে বিজয় চক পর্যন্ত পৌঁছে ধরনায় বসেন তাঁরা। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এম এ বেবি, ডি রাজা, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রাজীব রায়, এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা-এর মতো হেভিওয়েট নেতারা।

পরে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাইসিনা হিলস ও রাষ্ট্রপতি ভবনের চারপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হলেও, বাকি বিরোধী নেতারা বিজয় চকেই ধরনা চালিয়ে যান।

নেহরুর ঐতিহাসিক ভাষণের প্রসঙ্গ ও কেন্দ্রকে আক্রমণ

সংসদের সেন্ট্রাল হলের ভাষণে ১৯৪৭ সালের ১৪ অগাস্ট দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর কালজয়ী ‘ট্রিস উইথ ডেস্টিনি’ ভাষণের কথা স্মরণ করান রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, দেশের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও আশা যেন কোনোভাবেই ভেঙে না পড়ে, তা রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বেশ কিছু বিধানসভা ও উপনির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, গুজরাত, হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যের ভোট ফলাফল দেখে এখনও তাঁর বিশ্বাস হতে চায় না যে এমনটা কীভাবে সম্ভব!

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী বলেন, বিষয়টি শুধু তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোটা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা কমিশনের কাজ হলেও বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে দেখা করতে কেন তারা অনীহা প্রকাশ করছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অন্যদিকে, দিল্লির আসন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কড়াকড়ি ও অনুমতি না পাওয়া প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রাজীব রায় কেন্দ্র সরকারকে একহাত নেন। তাঁর মন্তব্য, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়, তবে বুঝতে হবে দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা ও স্বৈরাচারের রাজত্ব চলছে।