ক্ষেতে কাজ করার সময় মর্মান্তিক পরিণতি! হঠাৎ বুনো হাতির হাড়হিম করা হামলায় লুটিয়ে পড়লেন কৃষক

হরিদ্বার জেলার শ্যামপুর বন রেঞ্জের অন্তর্গত বাহার পিলি গ্রামে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জমিতে কাজ করার সময় বুনো হাতির অতর্কিত হানায় এক অসহায় কৃষকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই নৃংশস ঘটনার জেরে গোটা গ্রাম তথা সংলগ্ন বনাঞ্চল এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বন বিভাগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে, সজনপুর বিটের আওতাধীন একটি ব্যক্তিগত কৃষিজমিতে এই প্রাণঘাতী আক্রমণটি ঘটে। নিহত কৃষককে सतपाल पुत्र भगवान (सतपाल, ভগবানের পুত্র) অর্থাৎ স্থানীয় কৃষক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের পাহাড়।
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ মৃত কৃষক सतपाल প্রতিদিনের মতোই নিজের ক্ষেতে কাজকর্ম করছিলেন। সেই সময়ই হঠাৎ করে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটি হিংস্র বুনো হাতি আচমকা সেখানে এসে হাজির হয় এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই কৃষকের ওপর সর্বশক্তি দিয়ে চড়াও হয়। বুনো হাতির নির্মম আক্রমণে ওই কৃষক মারাত্মকভাবে জখম হন। আঘাত এতটাই গভীর ও মারাত্মক ছিল যে, ঘটনাস্থলেই তাঁর প্রাণহানি ঘটে। ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা হয়ে পড়েন স্থানীয় গ্রামবাসী।
খবর পাওয়া মাত্রই বন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও একদল অভিজ্ঞ কর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বন আধিকারিকেরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুরো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য সংগ্রহ করেন। একইসঙ্গে স্থানীয় পুলিশ থানাকেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। বন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে ওই এলাকায় বুনো হাতির অবাধ বিচরণ ও উপস্থিতির স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনার পর থেকেই বনাঞ্চল ও জনবসতির সংযোগস্থলে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো সম্ভাব্য বড় বিপদ এড়াতে ওই এলাকায় অবিলম্বে বনরক্ষীদের (ফরেস্ট গার্ড) মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে হাতির গতিবিধি সার্বক্ষণিক ট্র্যাক করা সম্ভব হয়।
এদিকে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে বাহার পিলি গ্রাম ও তার আশেপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চাষিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় গ্রামীণ বাসিন্দাদের ক্ষোভ ও উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো জঙ্গলসংলগ্ন কৃষিখেতগুলিতে প্রায়ই বুনো হাতির দল হানা দেয়, যার ফলে চাষের কাজে নামলেই মাথার ওপর ঝুলতে থাকে মৃত্যুর খাড়া। বিশেষ করে সন্ধ্যার প্রাক্কালে বা রাতে যখন কৃষকদের জমিতে জল দেওয়া বা অন্যান্য কাজ করতে হয়, তখন এই ধরনের আক্রমণ তাঁদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বন দফতরের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বন দফতরের কড়া নির্দেশ, কেউ যেন সন্ধ্যা বা রাতের বেলা একা একা জঙ্গল বা खेतोंের আশেপাশে না যান। বুনো হাতির গতিবিধির ওপর লাগাতার নজর রেখে চলেছে উদ্ধারকারী ও টহলদার দল। বন্যপ্রাণীর অনুপ্রবেশ রুখতে এবং জনজীবন নিরাপদ করতে সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।