“সংখ্যালঘুরাও বুঝছেন সরকার বদলাচ্ছে না!” রেজিনগরের মেগা ফলাফলে শমীক ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে তোলপাড়

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপ-নির্বাচনে এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতে চলেছে। পঞ্চম রাউন্ড পর্যন্ত ভোটগণনার পর বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের পিছনে ফেলে এক বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছেন। এই মুহূর্তে তিনি ২৩,১৮৯ ভোটের অপ্রতিরোধ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রেজিনগরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP), তৃতীয় স্থানে কংগ্রেস, চতুর্থ স্থানে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, পঞ্চম স্থানে সিপিএম এবং ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল। একইসঙ্গে নন্দীগ্রাম উপ-নির্বাচনেও ১৩ রাউন্ড গণনার পর বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ১ লক্ষ ৫ হাজার ৮৫৪ ভোটে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। জোড়া কেন্দ্রের এই অগ্রগতির পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, রাজ্যের দুই কেন্দ্রেই জাতীয়তাবাদী শক্তি জয়লাভ করতে চলেছে।
রেজিনগরের এই চমকপ্রদ ও ঐতিহাসিক ফল প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “রেজিনগরে আমরা বাবরি মসজিদ চাই না, শিল্প চাই, উন্নয়ন চাই। সংখ্যালঘুরা বিজেপির সঙ্গে নেই—এই ভুল ধারণা আজ চিরতরে ভেঙে গিয়েছে। সংখ্যালঘুরাও বুঝতে পেরেছেন যে আগামী দিনে কেন্দ্র বা রাজ্যে সরকারের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। তাই পছন্দ হোক বা না হোক, তাঁদের আমাদের সঙ্গেই থাকতে হবে। বিগত ৫ মাসে আমাদের সরকারের জনহিতকর কাজ দেখে সংখ্যালঘুরাও উপলব্ধি করেছেন যে উন্নয়নের স্বার্থেই তাঁদের আমাদের হাত ধরতে হবে।”
বিপুল জয়ের পথে এগিয়ে থাকা বিজেপির তরুণ প্রার্থী শাখারভ সরকার তাঁর প্রতিক্রিয়ায় অত্যন্ত বিনীত সুরে বলেন, “আমিও কয়েকটি বুথে কম ভোট পেয়েছি, গণতন্ত্রে এভাবেই লড়াই হয়। কিন্তু বিরোধী শিবিরে হতাশার ছবি স্পষ্ট। তৃণমূল বলে কি আর কোনো দল আছে? প্রধান বিরোধী দল তো দূরের কথা, মাঠে কোনো কার্যকরী বিরোধীই নেই। এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। মানুষ এদের কেনই বা ভোট দেবে? হুমায়ুন কাকা আমার ওপর রাগ করে প্রচারের মাঠে আসেননি, বলেছেন রাজনীতিই ছেড়ে দেবেন। কিন্তু আমার বাবা আমাকে শিখিয়েছেন কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট না করতে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির এই রমরমা পারফরম্যান্স এবং তৃণমূল ও কংগ্রেসের ভরাডুবি আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। হুমায়ুন কবীরের খাসতালুকে এই গেরুয়া সুনামি কেবল একটি উপ-নির্বাচনের ফল নয়, বরং রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বিজেপির ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে রইল।