প্লাস্টিক বর্জন করলেই পকেট ভরবে ক্যাশ-এ! দুর্গাপুজোর আগে বাম্পার উপহার পুজো কমিটিগুলিকে

দুর্গাপুজোর আনন্দকে দ্বিগুণ করতে এবং পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পুজো কমিটিগুলির জন্য এক আকর্ষণীয় ও অভিনব আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এ বছর থেকে চালু হচ্ছে ‘গ্রিন দুর্গাপুজো এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’। মূলত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সচেতনতার মতো প্রশংসনীয় উদ্যোগগুলিকে উৎসাহিত করতেই সরকারের এই বিরাট পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে এই পুরস্কার চালুর কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

পরিবেশবান্ধব পুজো করার ক্ষেত্রে সেরা উদ্যোগগুলিকে মূলত চারটি পৃথক বিভাগে পুরস্কৃত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে— ‘শ্রেষ্ঠ গ্রিন দুর্গাপুজো’, ‘শ্রেষ্ঠ পরিচ্ছন্ন ও বর্জ্য স্মার্ট পুজো’, ‘শ্রেষ্ঠ সচেতনতা উদ্যোগ’ এবং ‘কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’। রাজ্যস্তরে এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সেরা পুজো কমিটিকে আর্থিক পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা। এছাড়া দ্বিতীয় স্থানাধিকারী পাবে ৮০ হাজার এবং তৃতীয় স্থানাধিকারী পুজো কমিটি পাবে ৫০ হাজার টাকা। শুধু রাজ্যস্তরই নয়, জেলা স্তরেও উৎসাহ বজায় রাখতে প্রতিটি জেলা থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ পুজো কমিটিকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পুজোমণ্ডপগুলিতে বিশেষ স্টল তৈরি করে দর্শনার্থীদের মধ্যে চারাগাছ বিতরণের মতো পরিবেশবান্ধব কাজেও ক্লাবগুলিকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এবং আবেদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হয়েছে, যার নাম ‘গ্রিন দুর্গাপুজো ইভ্যালুয়েশন অ্যাপ’। পুজো কমিটিগুলিকে অনলাইনে এই অ্যাপের মাধ্যমেই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এর জন্য প্রথমে স্মার্টফোনে অ্যাপটি ডাউনলোড করে ‘রেজিস্টার অ্যাজ নিউ ইউজার’ বা ‘সাইন আপ’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ক্লাবের নাম, সঠিক ঠিকানা, মহকুমা এবং ব্লক বা পুরসভার বিবরণ দিতে হবে। পাশাপাশি, কমিটির প্রধান কর্মকর্তা বা সম্পাদকের নাম, সচল মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি দিয়ে সাবমিট করার পর নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি আসবে। সেই ওটিপি কোডটি নির্দিষ্ট বক্সে বসালেই অ্যাকাউন্ট সফলভাবে ভেরিফাই হয়ে যাবে। প্রাপ্ত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করার পর মূল্যায়ন ফর্মটি পূরণ করতে হবে। সেখানে প্লাস্টিক বর্জন, পরিবেশবান্ধব মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা তৈরি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক পদ্ধতি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। উৎসবের আমেজে পরিবেশ রক্ষার এই অভিনব উদ্যোগ পুজো কমিটিগুলির মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।