‘মোদী সরকার ভয় দেখাতে পারবে না!’ পুলিশের বাধা ও মারধরের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েও জন্তর মন্তরে অনড় বিক্ষোভকারীরা!

দিল্লির জন্তর মন্তরে ১০ই অক্টোবর তেলাপোকা জনতা পার্টির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজধানীতে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভের প্রাক্কালে দেশজুড়ে হাজার হাজার যুবক ও নেতাকর্মীকে পুলিশ কর্তৃক আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিজেপি সহ একাধিক সংগঠন। দলের নেতা অভিজিৎ দীপক সোশাল মিডিয়ায় এক পোস্টে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে লিখেছেন, “মোদী সরকারের এই ভয় দেখানোর চেষ্টা কখনও সফল হবে না। দেশের যুবসমাজ এখন আর কাউকে ভয় পায় না। যত বাধাই আসুক, আমি আগামীকাল দিল্লিতে আসছি এবং জন্তর মন্তরে পদযাত্রা করব।”
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন আলওয়ার পুলিশ সিজেপির সহ-ইনচার্জ দীপক বালিয়াণকে আটক করে। এই পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী ও অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করে সিজেপির আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ আটকের পাশাপাশি দীপকের পরিবার ও তাঁর ভাইয়ের ওপর চরম নৃশংসতা চালিয়েছে। প্রশাসনের এই দমনপীড়নের প্রতিবাদ জানিয়ে সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, অবিলম্বে দীপক বালিয়াণকে মুক্তি না দিলে এবং বিনা কারণে আটক রাখা বন্ধ না করলে দেশজুড়ে তীব্র ও সহিংস আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, যার সমস্ত দায়ভার বর্তাবে পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর।
এদিকে, গত ২ অক্টোবর থেকে দিল্লিতে চলা এই আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছেন এবং পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েছেন। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং নতুন দিল্লি এলাকায় বলবৎ থাকা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারা ক্রমাগত লঙ্ঘনের অভিযোগে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ২৫টি এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই মামলাগুলির বেশ কয়েকটিতে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সামগ্রিক এই পরিস্থিতি ঘিরে গোটা দেশে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।