UPI পেমেন্টে বড় ধাক্কা! এমডিআর নিয়ম পিছিয়ে যেতেই ১০% পর্যন্ত ধস পেটিএম-সহ একাধিক ফিনটেক শেয়ারে!

ডিজিটাল পেমেন্ট ও ফিনটেক দুনিয়ায় নতুন করে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। ইউপিআই (UPI) লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR) কার্যকরের নির্ধারিত সময়সীমা পিছিয়ে যেতে পারে—এমন খবর প্রকাশ্যে আসতেই শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা খেল দেশের একাধিক শীর্ষস্থানীয় ফিনটেক সংস্থা। পেটিএম (Paytm), মবীকুইক (Mobikwik) এবং পাইন ল্যাবস (Pine Labs)-এর মতো জনপ্রিয় কোম্পানির শেয়ারে দেখা মিলল উল্লেখযোগ্য পতনের। যদিও এমডিআর কার্যকরের তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এমডিআর কার্যকরের সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনার খবর চাউর হতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইউপিআই লেনদেন থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের যে প্রবল প্রত্যাশা ফিনটেক সংস্থাগুলি করে বসেছিল, তাতে সাময়িক ছেদ পড়ায় শেয়ারে শুরু হয় ব্যাপক বিক্রির চাপ। বিএসই (BSE)-তে পেটিএমের মূল সংস্থার শেয়ার এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ কমে ১,৫৬০.৬০ টাকায় নেমে এসে বন্ধ হয়। পাশাপাশি, মবীকুইকের শেয়ার ৮.৪৩ শতাংশ পড়ে ২৩৪.৪০ টাকায় এবং পাইন ল্যাবসের শেয়ার ৪.৯৫ শতাংশ কমে ১৬৮.৭৫ টাকায় এসে ঠেকে। এছাড়া নেটওয়ার্ক পিপল সার্ভিসেস টেকনোলজিস (NPST)-এর শেয়ারও ৪.৩৯ শতাংশ কমে ১,৭৭২.৬০ টাকায় বন্ধ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমডিআর বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট হলো ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের উপর ধার্য করা একটি নির্দিষ্ট ফি। এই ফি কার্যকর হলে পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির আয়ের নতুন নতুন পথ উন্মুক্ত হতে পারত। এর আগে সেই সম্ভাবনাকে ঘিরেই ফিনটেক সংস্থাগুলির শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে ২,০০০ টাকার বেশি ডিজিটাল লেনদেনে ০.৪ শতাংশ এমডিআর ধার্য করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই নিয়মের সুনির্দিষ্ট শর্ত এবং কার্যকরের তারিখ নিয়ে সরকারি নির্দেশিকা অত্যন্ত জরুরি।
প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবরের পরিবর্তে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম চালুর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও মার্চেন্টদের তরফেই নতুন এই ব্যবস্থা নিখুঁতভাবে রূপায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। তবে সরকারি সিলমোহর না পড়ায় সংস্থাগুলির সম্ভাব্য অতিরিক্ত আয়প্রাপ্তি কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কাই শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আগামী দিনে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপরেই এই খাতের বাজারের গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে।