ককপিটে কো-পাইলটের ভয়ঙ্কর হামলা! ১৭০ জনের জীবন বাঁচিয়ে ইজরায়েলের সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন ভারতীয় পাইলট!

আকাশে তখন মৃত্যুর ছায়া নেমে এসেছিল। দুবাইয়ের বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে আচমকাই শুরু হয় ভয়াবহ হামলা। মাথায় একের পর এক নৃশংস আঘাতে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছিল এবং শরীর ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়ছিল। বিমানটি তখন দ্রুত নীচের দিকে নেমে যাচ্ছিল এবং পিছনে শোনা যাচ্ছিল যাত্রীদের আর্তচিৎকার। কিন্তু সেই চরম বিপর্যয়ের মুখেও হার মানেননি তিনি। শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে বিপর্যয় ঠেকানোর চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর এই অসামান্য সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি এবং পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে ‘সিভিলিয়ান হিরোয়িজম’ বা অসামরিক বীরত্বের জন্য প্রেসিডেন্টের বিশেষ সম্মানে ভূষিত করার কথা ঘোষণা করেছেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক বিশেষ ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট হেরজগ জানিয়েছেন, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁর হাতে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান তুলে দেওয়া হবে। ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমান ছিনতাইচেষ্টার সময় যাঁরা বিপর্যয় রুখতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই ভয়াবহ ঘটনায় বিমানে থাকা ১৭০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ রক্ষার ক্ষেত্রে স্মিতের ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রপ্রধান। ইজরায়েলের সরকারি প্রেস দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বিমানের বিপর্যয় ঠেকাতে সাহায্য করা অন্য ৬ জন ইজরায়েলি নাগরিককেও ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল ফর সিভিলিয়ান হিরোয়িজম’ দেওয়া হয়েছে।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথোপকথনে বিমানের ককপিটের ভেতরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন খোদ স্মিত। তিনি জানান, যাত্রা স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছিল। সহ-পাইলট প্রার্থনা করার কথা বলায় তিনি তাতে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখেননি। কিন্তু প্রার্থনা শুরু হওয়ার চার-পাঁচ মিনিট পর আচমকাই তাঁর মাথার পিছনে প্রবল আঘাত আসে। প্রথমে তিনি বিমানগত ত্রুটি মনে করলেও পরে বুঝতে পারেন যে ককপিটে থাকা তাঁরই সহ-পাইলট এই হামলা চালিয়েছেন। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গেলেও তিনি হাল ছাড়েননি। মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থাতেই শেষ শক্তি দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন তিনি।
গত ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার পর থেকে আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন স্মিত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে এবং তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস তাঁর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। অন্যদিকে, স্মিতের সাহসিকতার প্রতি সম্মান জানিয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আগামী স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্মিত মচ্ছরকে একসঙ্গে উৎসবের প্রদীপ প্রজ্বলনের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ঘটনা এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।