ষষ্ঠী থেকে দশমী রাতভর ছুটবে ট্রেন! যাত্রীদের সুরক্ষায় কড়া নজরদারি ও চিকিৎসা ব্যবস্থার বড় ঘোষণা!

দুর্গাপুজোয় রাত জেগে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা থাকলে আপনার জন্য রয়েছে দারুণ সুখবর। পুজোর সময় উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবং যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবার একযোগে বিশেষ উদ্যোগ নিল পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন। আগামী ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত হাওড়া ডিভিশনে একজোড়া বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাম্পার লোকাল এবং দূরপাল্লার ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুজোর ক’দিন প্রতিদিন হাওড়া স্টেশনে ৭ থেকে ৮ লক্ষ যাত্রীর বিশাল ভিড় সামলাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত বন্দোবস্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

পূর্ব রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, পুজোর ভিড় সামলাতে হাওড়া থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে সাত জোড়া বিশেষ দূরপাল্লার ট্রেন এবং সাত জোড়া স্পেশাল ইএমইউ (EMU) লোকাল ট্রেন চালানো হবে। এর পাশাপাশি, হাওড়া ডিভিশনের সামগ্রিক রুটে মোট ২৫ জোড়া পুজো স্পেশাল ট্রেন চলাচল করছে। যাঁরা সারারাত জেগে মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখবেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রাতে বিশেষ লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু থাকবে। বর্ধমান-হাওড়া, হাওড়া-চাঁদনপুর, ব্যান্ডেল-হাওড়া এবং তারকেশ্বর-শেওড়াফুলি রুটে এই নাইট স্পেশাল ট্রেনগুলি চলাচল করবে। এমনকি হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনের মধ্যে রাতের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে ডানকুনি ও নৈহাটি হয়েও বিশেষ ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

টিকিট কাটার দীর্ঘ লাইন এড়াতে হাওড়া স্টেশনে ৩০টি ইউটিএস (UTS) কাউন্টার এবং ২৮টি অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন (ATVM) সক্রিয় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে চলাচলকারী ৭৫টি ট্রেনে বিশেষ মহিলা আরপিএফ কর্মীসহ দ্বিসদস্যের এসকর্ট দল মোতায়েন থাকবে। গোটা হাওড়া ডিভিশনে প্রায় ৩,০৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ওয়ার রুম থেকে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হাওড়া, রামপুরহাট, ব্যান্ডেল ও বর্ধমানে বিশেষ কুইক রিঅ্যাকশন টিম (QRT) প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য হাওড়া, ব্যান্ডেল, বর্ধমান, কাটোয়া, বোলপুর এবং আজিমগঞ্জ স্টেশনে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া ও বর্ধমানে ২৪ ঘণ্টা তিনটি শিফটে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম বিশাল কাপুর জানিয়েছেন, পুজোর আনন্দ শেষে প্রতিটি মানুষ যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদে ও সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।